তথ্যের বিভ্রাটে স্থগিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মীসভা
- ইবি প্রতিনিধি
- প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৩৮ PM , আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৪৫ PM

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। গত ২০২১ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল বহুল প্রত্যাশিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মীসভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহির উদ্দিনকে। তিনি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ট্রেনের টিকিটও কেটেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের দেওয়া তথ্যে বলা হয়, সম্প্রতি সংঘটিত ‘ট্রিপল মার্ডারের’ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা। এই তথ্যের ভিত্তিতেই কর্মীসভা স্থগিত করা হয়।
যদিও একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বইমেলার শেষ দিন ছিল এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে। একটি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বইমেলার শেষ দিন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুখর ছিল ক্যাম্পাস। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীসভা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মী।
ইবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ জানান, কমিটি অনুমোদনের দিন থেকেই কমিটির বেশিরভাগ সদস্য নিস্ক্রিয়, অপরিচিত, বিবাহিত ও চাকুরীজীবি। এই প্রথম কেন্দ্র থেকে একটি কর্মী সভা করতে আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয় কিন্তু একটা মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে কর্মী সভা বাতিল করা হয়। যেখানে ক্যাম্পাসে জাঁকজমকপূর্ণ ও শিক্ষার্থী মুখরিত পরিবেশ বিদ্যমান সেখানে কর্মীসভা বাতিল করা হয়েছে ক্যাম্পাস প্রায়ই শিক্ষার্থী শূন্যের অভিযোগে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা করলেও কর্মীসভা করতে না পারা শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক ব্যর্থতা। ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মীসভার মাধ্যমে নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে হয়তো সেই ভয়েই তারা (আহবায়ক ও সদস্য সচিব) কর্মীসভা করতে চায় নাই।
২৩ তারিখ আমাদের কর্মী সভা ও সদস্য সংগ্রহের ফর্ম বিতরন কর্মসূচি ছিল। ক্যাম্পাসে তখন বইমেলা এবং বিভিন্ন বিভাগের রিইউনিয়ন চলছিল, এ সময় কর্মীসভা করলে পরিপূর্ণতা পেতে বলে মনে করি। কিন্তু এটা হয়নি এর প্রধান কারণ কমিটি ভেঙে যাবার আশংকা। আমি মনে করি, কর্মীসভা হলে সবাই কথা বলার সুযোগ পেতো, পরের দিন থেকেই আমরা সদস্য ফরম নিয়ে সকল ডিপার্টমেন্টে যেয়ে ছাত্রদল সম্পর্কে, ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে, ছাত্রদলের কাজকর্ম সম্পর্কে কথা বলার সু্যোগ পেতাম। আশাকরি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দ্রুতই এবিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরে আমি যাব জন্য ট্রেনের টিকেটও কেটেছিলাম কিন্তু আগেরদিন আমাকে জানানো হয় যে ওই এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের কারণে আতঙ্কে ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীশূন্য। আবার সামনে লম্বা রোজার ছুটি হওয়ায় অনেকেই নাকি আগেভাগে বাড়ি চলে গেছে। আমি তো ইবির স্টুডেন্ট না, তাই বাস্তবিক অবস্থাটা আমার সেভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ থাকে না, প্রাপ্ত তথ্যের উপরেই নির্ভর করতে হয়। আমরা ঈদের পরপরই কর্মীসভা করে ফেলব এবং খুব দ্রুতই ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ জুন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের সাহেদ আহম্মেদকে আহবায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৩১ সদস্যের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে পদ পাওয়া ১২ জন সদস্য দলীয় নীতিমালা না মেনে বিবাহিত, অছাত্রদের পদ দেয়ার অভিযোগ তুলে কমিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আহবায়ক কমিটি সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, আহসান হাবীব, সবুজ হোসাইন ও সদস্য সাব্বির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়। তবে একাংশের বিরোধীতার মুখে কমিটি টিকে গেলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা যায় স্থবিরতা।