দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, থমথমে আনন্দ মোহন কলেজ

আনন্দ মোহন কলেজের মূল ফটক
আনন্দ মোহন কলেজের মূল ফটক  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহ শহরের আনন্দ মোহন কলেজে ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী-ছাত্রদলের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজের পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন হলের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। অপরদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনন্দ মোহন ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এমন অবস্থায় কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। 

এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, সামনে তাদের পরীক্ষা, তাই হল ছাড়বেন না। এ ছাড়া হল ছেড়ে গেলে হামলাকারীরা দখল করবে। তবে শিক্ষকদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন। এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল অপপ্রচারের শিকার হয়েছে। ছাত্রাবাসে অবৈধ সিট দখলকারী, নিষিদ্ধ সংগঠনের অনুসারীরা এর সঙ্গে জড়িত।

জানা যায়, গতকাল ১২ জানুয়ারি ময়মনসিংহে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হলের সিট নবায়নকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয়ক-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছ। বিকেল ৫টা থেকে ক্যাম্পাসে হামলা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে চলে ৭টা পর্যন্ত। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান শিমুল, আল আমিন, সবুজ, রিফাত, তানভীরসহ অজ্ঞাত প্রায় ১০ জন হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে এ ঘটনায় ছেলেদের পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন হল, কবি নজরুল হল ও ভাষাসৈনিক আহমেদ মালেক হল বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ সকাল আটটার মধ্যে ছেলেদের ছাত্রাবাস ত্যাগের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কলেজে আগামী তিন দিনের জন্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আনন্দ মোহন কলেজ হোস্টেলে অবস্থানকারী ছাত্রদের পক্ষ থেকে আজকের এই বার্তা প্রদান করছি। আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে কলেজ হোস্টেলে অবস্থান করছি। ২০২৫ সালের সিট নবায়নসংক্রান্ত সৃষ্ট জটিলতায় আজ আমরা আক্রান্তের শিকার হয়ে হলে অবস্থান করছি। এমতাবস্থায় কলেজ কর্তৃপক্ষের হল বন্ধ ঘোষণাসংক্রান্ত নোটিশ আমরা মানি না। কারণ, ২০২১-২২ সেশনের (দ্বিতীয় বর্ষ) ফাইনাল পরীক্ষা চলমান। এমতাবস্থায় হল কর্তৃপক্ষের এই অযৌক্তিক দাবি মানি না। ২৭ জানুয়ারি মাস্টার্স ২০২১-২২ সেশনের পরীক্ষা শুরু হবে। এ অবস্থায় এ দাবি মানা সম্ভব নয়। আমরা আশঙ্কা করছি যে হল বন্ধ থাকা অবস্থায় আজকের হামলাকারীরা হল দখল করবে, তাই আমরা হল ছাড়ব না।’ এ ছাড়া তিনি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অন্যদিকে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আশিক রাব্বি বলেন, গতকাল শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল অপপ্রচারের শিকার হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে হলের সিট নবায়নকে কেন্দ্র করে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো হলে সিট নবায়নের ক্ষেত্রে চারটি যৌক্তিক দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল—হলে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন না; অবৈধ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চিহ্নিতদের বের করতে হবে; হলে গত ৫ আগস্টের পর যাঁরা অবৈধভাবে উঠেছেন, তাঁদের নবায়ন করা যাবে না এবং নবায়ন ফি ৫ হাজার ৫০০ টাকা করতে হবে। আমরা দেখছি, প্রশাসনের সকাল আটটার মধ্যে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুততম সময়ে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে এবং অছাত্রদের স্থায়ীভাবে বের করতে হবে।’

ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল নিরাপত্তা দিতে হবে, জিনিস নিরাপদে থাকবে, হলের সিট ঠিক থাকবে। বাইরের কেউ এসে হলের নিয়ন্ত্রণ নেবে না। হল ছাড়তে না চাইলেও হলের স্টিয়ারিং কমিটির শিক্ষকেরা আমাদের সব দাবি মেনেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ আজ বিকেল চারটার মধ্যে হল ত্যাগের সময় দিয়েছিলেন। আমরা নির্দেশনা মেনে হল ছেড়ে যাচ্ছি।’

কলেজের ছাত্রদের হল সুপার শাহ জাহান করীম বলেন, ‘ছাত্রাবাস দখলের চিন্তা কারও নেই। একধরনের রিউমার (গুজব) শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়েছে। আমরা আশ্বাস দেওয়ার পর তারা হল ছাড়ছেন।’


সর্বশেষ সংবাদ