শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা না হলে উন্নত বাংলাদেশ গড়া কষ্টসাধ্য হবে: উপাচার্য

মেলায় একটি স্টলের পণ্য দেখছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম
মেলায় একটি স্টলের পণ্য দেখছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম  © টিডিসি ফটো

‘আমরা যদি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে না গড়তে পারি, তাহলে ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কষ্টসাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম।

সোমবার (১২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ প্রাঙ্গণে মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট ফেয়ার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,  একটি গতানুগতিক ধারণা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে শুধু চাকুরী প্রত্যাশী গড়ে তুলতে পারে। এই ধারণা বদলাতে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে এবং তাদের সৃজনশীলতাকে চর্চার মাধ্যমে তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম করতে হবে। অভিভূত এই মেলা শিক্ষার্থীদের দক্ষ গড়তে অবশ্যই সহায়তা করবে।

পুঁথিগত বিদ্যালাভের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট কোর্সের অর্জিত জ্ঞানের প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্টলে ছিল হরেক রকম পণ্যের সমারোহ। পাটের কারুপণ্য, হাতে তৈরি গহণা, হ্যান্ডপেইন্টেড পোশাক, হাতে তৈরি বুকমার্কস, মাটির তৈরি পণ্য।

তবে স্টলগুলোতে প্রাধান্য পেয়েছে খাবার। বাহারি নকশী পিঠা, বিভিন্ন ধরনের পুলি পিঠা, হাতে তৈরি বিভিন্ন নাশতা, আমসত্ত্ব, পুডিং, জুস, আচার, মিষ্টি, কেক, ঝালমুড়ি, আম, বিভিন্ন পাটিসাপটা ইত্যাদি। বাদ যায়নি চাইনিজও। আয়োজন করা হয়েছে পাস্তা, ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন, কেসুনাট সালাদ এসবও।

মেলায়- পণ্য কুঠির, সেলস এক্সপ্রেস, দেওরার দোকান, ম্যাংগো এন্ড মোর, মার্কেটিং এক্সপ্রেস, মুড অন, পণ্য বিচিত্রা স্টল অংশ নেয়।

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সায়েমা বলেন, এই মেলাটি অন্যরকম ছিল। গতানুগতিক ধারার মতো না। সব রকমের পণ্য ছিল, যা সত্যিই ভালোলাগার মত। এছাড়াও বিভিন্ন পণ্য অল্প দামেই পেয়েছি।

পণ্য কুঠির স্টলের সত্ত্বাধিকারী শিক্ষার্থী ফায়েজুর রহমান বলেন, বইতে মার্কেটিং নিয়ে যা যা পড়েছি, মেলায় তা প্রয়োগ করে প্রমোশন করেছি। আশানুরূপভাবে তাই অনেক ক্রেতা এসেছে। লাভের জন্য অংশগ্রহণ না হলেও সব ব্যয় শেষেও যখন লাভ থাকল তখন সত্যিই আনন্দ অনুভূত হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে বাস্তবিক একটি দক্ষতা অর্জন করলাম।

মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট কোর্সের শিক্ষক ও মেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার পোদ্দার বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান আবশ্যক। আর শিক্ষার মাধ্যমটা যত আনন্দদায়ক হবে শিক্ষার্থীদের শিখার আগ্রহ ততই বাড়াবে। সেই আলোকে শিক্ষার্থীদের ৩য় বর্ষের পঠিত কোর্স "মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট" থেকে তারা যে তত্ত্বীয় জ্ঞান লাভ করেছে সেটার প্রায়োগিক সক্ষমতা যাচাই করাই ছিল এই ইভেন্টের প্রধান উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, যেখানে একটা পণ্য প্রস্তুতের পর থেকে প্রচার ও প্রচারণার বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে। তার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে সবাইকে জানানো। টার্গেট কাস্টমার নির্ধারণ করে পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি। ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেয়া ও সেটার বিক্রয় পরবর্তী সেবা এবং ভোক্তার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বাজারে টিকে থাকার প্রয়াস সব এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিখবে।

প্রশান্ত কুমার বলেন, তত্ত্বীয় পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যদি সেটার এপ্লিকেশন টা হাতে কলমে শিখতে পারে তাহলেই একটা পরিপূর্ণ শিক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আশা করি শিক্ষার্থীরা আজকের এই ইভেন্ট শেষে তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবিক শিক্ষা লাভ করবে যা পরবর্তী সময়ে তাদের অনেক উপকারে আসবে।


সর্বশেষ সংবাদ