আত্মহত্যা করেছেন লোপার ছেলে, জিনিয়াকে কাছে রাখতে অপহরণ!

ছেলে-মেয়ের সঙ্গে লোপা তালুকদার
ছেলে-মেয়ের সঙ্গে লোপা তালুকদার

জিনিয়া। বয়স ৯ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত মুখ ছোট্ট এই পথশিশুটি। সম্প্রতি তাকে অপহরণের দায়ে লোপা তালুকদার নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রলোভন দেখিয়ে জিনিয়াকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশ।

কিন্তু কে এই লোপা? কেন-বা পথশিশুকে অপহরণ? সেই উত্তর এখনও মেলেনি। ইতোমধ্যেই দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে লোপাকে। চলছে সব তথ্যের বিশ্লেষণ। জানা গেছে, লোপা তালুকদার অনেকেরই পরিচিত। মন্ত্রী, এমপি, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তার ছবি রয়েছে। সাংবাদিক মহলেও তার ভালো যোগাযোগ। মূলত সাংবাদিকতার আড়ালেই এমন অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা গেছে, অগ্নি টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর লোপা। এছাড়া আওয়ামী পেশাজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া নবচেতনার সিনিয়র রিপোর্টার তিনি। মোহনা টিভির সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার বলেও উল্লেখ করেছেন। এখানেই শেষ হয় তিনি শীর্ষ টিভির ডিরেক্টর। সাপ্তাহিক শীর্ষ সমাচারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।বাংলাদেশ কবি পরিষদের কবিও তিনি। তিনি নিজেকে সিনিয়র সাংবাদিক ও আওয়ামী পেশাজীবী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন।

শিশুটিকে উদ্ধার অভিযানে থাকা ডিবির রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিশু বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার লোপা তালুকদারের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বছরখানেক আগে তার ছেলেটি আত্মহত্যা করে। তার আগের স্বামীও মারা গেছেন। কেন জিনিয়াকে অপহরণ করেছেন, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও লোপা দাবি করছেন, তার কাছে রাখার জন্য জিনিয়াকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন।

ছেলের মৃত্যুতে মাঝে মাঝেই এমন আবেগি স্ট্যাটাস দিতেন লোপা

 

উদ্ধারের পর জিনিয়া বলেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তাকে শাহবাগে দুই নারী ফুসকা খেতে দেয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে তাকে যেতে বলে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন টিএসসিতে মায়ের কাছে ফিরতে চাইলে তাকে আর যেতে দেওয়া হবে না বলে জানায়। তার আর কোনো কাজও করতে হবে না। তাকে ভালো ভালো খাবারও দেওয়ার কথা বলা হয়।

এদিকে সাত দিন পর গতকাল দুপুরে নিজের মেয়েকে কাছে পেয়ে আনন্দে চোখের পানি মোছেন জিনিয়ার মা সেনুরা বেগম। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তার দুই মেয়ে। স্বামী নেই। এ দুই মেয়ে নিয়ে তিনি টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় থেকে ফুল বিক্রি করেন। এর আগে তার বড় মেয়ে নিখোঁজ হলেও ফিরে এসেছিল।

এই নারী বলেন, তিনি আর ঢাকাতেই থাকতে চান না। তিনি আতঙ্কে আছেন। মেয়েদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাবেন।


সর্বশেষ সংবাদ