চান্স না হলে একজন শিক্ষার্থীকে যে সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে হয়

মো. হাবিব খান
মো. হাবিব খান  © ফাইল ছবি

সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল, ভার্সিটিতে চান্স না হলে হতে পারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তোমার ঠিকানা। আবার হতে পারে তোমার পড়াশোনা শেষ। ডাবল জিপিএ ফাইভ এতো ভাব-পাব এর দাম পায়ের নিচে চলে যাবে। চান্স না হলে, যা হবে পরিবার থেকে বিয়ে/সাপোর্ট না থাকা/সংসারের হাল ধরা। আবার হতে পারে কোন রকম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়া ধরে রাখা। তাদের বেশি ভাগ কোন রকম অনার্স শেষ করলেও দিন শেষে ভালো কোন কিছু করতে পারেনা। ১০০০ জনের মধ্যে হয়ত বা ৭০/১০০ জন ভালো কিছু করতে পারে। বাকিদের অবস্থা পান্তা ভাতে চলার মতো  চলে।

আবার অনেকের সুযোগ হয় ডিগ্রিতে পড়ার; সেটা বর্তমানে না পড়ার মতোনই। শুধু কোনো রকম সার্টিফিকেট হবে। আবার সাথে বিয়েও হবে। সেটা দিয়েও দিন শেষে ১ হাজারে হয়ত বা ৬০/১০০ জন ভালো কিছু করতে পারে কোন রকম একটা কিছু পায়। 

আবার অনেক পরিবারের টাকা থাকলেও করে না প্রাইভেটে ভর্তি। আবার প্রাইভেট থেকে পড়েও ৪০/৫০% স্টুডেন্ট বসে বসে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। হচ্ছে না ভালো কর্মসংস্থান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, মেডিকেল, ডেন্টাল থেকে বের হয়ে ভালো করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর পরিবার, সমাজ থেকে থাকে না কোনো চাপ। নিজের জায়গায় তৈরি করে নেওয়ার সুযোগ থাকে অনেক। 

তারপরও বাজারে সরকারি, বেসরকারি চাকরির চাহিদা, জায়গা কম থাকায় হয়তোবা সবার সুযোগ হয় না। না হলেও মোটামুটি ভাবে চলতে পারে ভালো। সেই ডিগ্রি, অনার্স জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট, বেসরকারি ভার্সিটি স্টুডেন্টদের থেকে ভালো। 

ভালো জায়গায় চান্স না পেলে শুনতে হবে পরিবার থেকে নানান ধরনের কথা, সমাজ থেকেও শুনতে হবে নানান কথা। বন্ধুদের থেকেও। পাবে না আর আগের মতো পাত্তা; না পরিবার, না সমাজ, না বন্ধুদের থেকে। এক টাকা পরিবার থেকে নিতে হয়ত বা দিতে হবে নানান কৈফত ইত্যাদি। এছাড়াও আর অনেক কিছু হতে পারে। হতে পারে জীবনের শেষ অধ্যায় পৃথিবীতে। আর এই সব কিছুর  পরিণতির জন্য দায়ী একমাত্র তুমি নিজেই।

সুতরাং কিছু করার আগে ভেবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিও, তাহলে দিন শেষ অত্যন্ত আফসোস করতে হবে না। স্বপ্ন পূরণের রাস্তা কোনটি সঠিক তা আগেই বেছে নিও। উপরের পরিস্থিতি যেন না হয়। আর হলেও পরবর্তী তে যেন আফসোস না হয়। তাই এইচএসসি শুরু থেকেই নিজের লক্ষ  ঠিক করতে হবে যে কোথায় দেখতে চাও নিজেকে ভবিষ্যতে। আর সেই অনুযায়ী নিজেকে গুছিয়ে নিতে হবে। সেই অনুযায়ী পড়াশোনা করতে হবে। আর সেইভাবে সামনে অ্যাডমিশনে কীভাবে ভালো করবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। 

যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিবে তাদের হাতে এখনো অনেক সময় আছে, চাইলে পরিশ্রম করে এখনো নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। করতে একটু কষ্ট। আর কষ্ট ছাড়া এই পৃথিবীর এখন পর্যন্ত কেউ ভালো কিছু করতে পারেনি এবং আমরাও পারব না। সুতরাং ভালো পাওয়ার জন্য আমাদের কষ্ট করতেই হবে। পৃথিবীকে এতো সহজ ভাবলে চলবেনা। লড়াই করে সফলতা অর্জন করে নিতে হবে। আর সেই লড়াই হবে টার্গেট করে। যেন কোন ভাবে টার্গেট মিস না হয়। তাহলেই দিন শেষে ভালো কিছু করতে পারবে। 

নিজেকে ভালো অবস্থানে নিতে পারবে। তার জন্য করতে হবে কঠোর পরিশ্রম। যারা স্টুডেন্ট তাদের করতে হবে পড়াশোনা। একটি সুন্দর রুটিন অনুযায়ী। রুটিন অনুযায়ী চলা বেশ কঠিন লাগে তার পরেও রুটিন অনুযায়ী চলতে হবে, চলার চেষ্টা করতে হবে।

যদি খেয়ার করো বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মুলুক পরীক্ষায় যারা ভালো করে বা টপের মধ্যে থাকে তাদের চলা ফেরা, পড়াশোনা, জীবন যাত্রা কেমন ছিল বা কেমন থাকে। 

আশা করি বুঝতে পারছো। আর ভালো করার জন্য দরকার সঠিক একটি গাইড লাইন। যেই গাইড লাইনে চললে তোমার সফলতার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। শেষে একটি কথা বলব যা আমরা সবাই জানি _ পরিশ্রম সফলতা চাবিকাঠি। আর এই সফলতা অর্জন করতে হলেই করতে হবে আমাদের পরিশ্রম। আবার পরিশ্রম কম বেশি সবাই করি, কিন্তু দিন শেষে সবাই ভালো সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে পারি না কারণ। কোন কিছুর লক্ষ না ঠিক করে পরিশ্রম করলেও কাজে আসেনা তেমন একটা। 

যে জিনিসের জন্য পরিশ্রম করতে সেই জিনিস সম্পর্কে আগে সব কিছু জানতে হবে। তার পর পরিশ্রম সেই ভাবে করতে হবে। ভুল পরিশ্রম করে লাভ নেই। জুনিয়র দিয়ে উদ্দেশ্য বলব যারা এসএসসি, এইচএসসি দিবে এখন থেকে সঠিক গাইড লাইন সঠিক ভাবে পরিশ্রম করে যাও ইনশাআল্লাহ সফল হবে। পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। যদি পরিশ্রম করার রুট - ম্যাপ ঠিক থাকে।

লেখক: মো. হাবিব খান, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক,
মেডিকেল আওয়ার টার্গেট- নাফ। মেডিকেল এন্ড ভার্সিটি অ্যাডমিশন কোচিং।


সর্বশেষ সংবাদ