ধারেকাছেও নেই দুজন, শিক্ষায়-গবেষণায় ৭ জনই পিছিয়ে বিদায়ীদের চেয়ে
দেশে একযোগে ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ১১টি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের এক ঘণ্টা না পেরোতেই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারও করা হয়। তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পুরোনো উপাচার্যদের তুলনায় নবনিযুক্ত উপাচার্যদের বড় অংশই শিক্ষা ও গবেষণায় পিছিয়ে রয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনাও চলছে।
নবনিযুক্ত ও পুরোনো ২২ ভিসির শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা গেছে, নতুন উপাচার্যদের ৭ জনেরই গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যা পুরোনোদের তুলনায় কম। এক্ষেত্রে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা আগের দুই উপাচার্যের ধারেকাছেও নেই। এ ছাড়া এই ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্যদের সবাই পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে। বিপরীতে নতুন ১১ ভিসির মধ্যে ৭ জন বিদেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী।
শিক্ষা-গবেষণায় সাবেকদের ধারেকাছেও নেই রাবিপ্রবি-বুয়েটের নতুন উপাচার্য
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ছিলেন। জানা গেছে, তিনি ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও ১৯৯২ সালে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ২০০৩ সালে। এরপর ২০০৮ সালে কিওটো ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল রিসার্চ সম্পন্ন করেন।
অধ্যাপনাকালে একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য, প্রভোস্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পিয়ার রিভিউ কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্যসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। অর্জন করেছেন বহু স্বীকৃতি ও সম্মাননা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৯টি গবেষণাপত্র দেশীয়-আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তার সাইটেশন সংখ্যা অন্তত ৫৭৬।
প্রতিষ্ঠানটির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান একজন প্রাণরসায়নবিদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। আতিয়ার রহমান ‘স্কোপাস ২০২৪’ প্রকাশিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ গবেষকদের তালিকাতেও স্থান লাভ করেন। এ পর্যন্ত তার ২৪৩টি গবেষণাপত্র দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যার সাইটেশন সংখ্যা ৪ হাজার ১৭। একটি সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, তার গবেষণাপত্র এক লক্ষ ১৩ হাজার ৭০৩ বারের বেশি পঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: উল্টো পথে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা
অধ্যাপক আতিয়ার রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সালে স্নাতক ও ১৯৯৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি জাপান থেকে পিএইচডি ও ডারবান থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। উপাচার্য হওয়ার আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদেন ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রফেসর ড. একরামুল হককে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই অধ্যাপক ১৯৯৬ সালে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি জার্নালে ৫০টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, শিক্ষকতার পাশাপাশি অধ্যাপক একরামুল হক বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে, প্রফেসর ড. একরামুল হক ১৯৮৯ সালে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মেধাতালিকায় অনার্স মার্কসসহ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। একই বছর তিনি বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ১৯৮৪ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ও ১৯৮৭ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (পরিবেশ) বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. বদরুজ্জামান পরিবেশ প্রকৌশলের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ এবং পানির চিকিৎসা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অবদান রেখেছেন। তার কাজের জন্য তিনি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ পর্যন্ত তার ১০৮টি গবেষণাপত্র দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যার সাইটেশন সংখ্যা ৫ হাজার ৮১২। তার গবেষণাপত্র পঠিত হয়েছে ২৮ হাজার ৬০০ বারের বেশি।
এ ছাড়া অধ্যয়ন ও অধ্যাপনাকালে বহু স্বীকৃতি ও সম্মাননা অর্জন করেছেন বুয়েটের সাবেক এই উপাচার্য। এর মধ্যে আইটেক্স গোল্ড মেডেল, প্রিন্স সুলতান বিন আব্দুলআজিজ প্রাইজ ফর ওয়াটার ২০১২ এবং চি এপসিলন বেস্ট স্টুডেন্ট ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখযোগ্য।
নতুন উপাচার্যরা পিছিয়ে আরও পাঁচটিতে
নবনিযুক্ত উপাচার্যদের মধ্যে আরও পাঁচজন শিক্ষা-গবেষণায় সাবেকদের থেকে তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছেন। এগুলো হলো— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। গবেষক হিসেবে বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তার ৩৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— দারিদ্র্য বিমোচন, এনজিওর ভূমিকা, সুশাসন, ই-গভর্নেন্স, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)। ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বহু জার্নালে তার ৩৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়। এ পর্যন্ত তার দুটি গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে।
জানা গেছে, অধ্যাপক মতিনুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ বিএসএস (অনার্স) এবং প্রথম শ্রেণীতে ৩য় স্থান অধিকার করে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে তিনি ২০০০ সালে অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটি (ইউএনএসডব্লিউ) থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৭ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন: বাংলাদেশের এনজিও কার্যক্রমের ওপর একটি সমীক্ষা’ বিষয়ের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি।
আরও পড়ুন: লুটপাটের মহোৎসব সিদ্ধেশ্বরী বিদ্যালয়ে, অর্ধ শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, লোপাট ১৪ কোটি টাকা
১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) রাজনৈতিক স্টাডিজ ও পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক মতিনুর। একই বছর চলে আসেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও লোক প্রশাসন বিভাগে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংগঠনিক দিক থেকে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সভাপতি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি, ইবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক এবং ইউনিভার্সিটি টিচারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মানবাধিকার, বিচার ব্যবস্থা, ইসলামি ফিকহী বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করেছেন। এসব বিষয়ের উপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তিনি প্রায় ৩৫টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং একাধিক বই রচনা করেছেন।
জানা গেছে, ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ উদ্বাস্তু, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু আইন ও ইসলামি ফিকহী আইন নিয়েও কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৯ সালে এলএলবি (সম্মান) ও ১৯৯০ সালে এলএলএম সম্পন্ন্ করেন। ২০০০ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ২০০৯ সালে এমফিল এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আইন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এই সময়ে তিনি ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতার দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া তিনি একাধিক ডিপ্লোমা সম্পন্ন করছেন।
১৯৯৪ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয় অধ্যাপক নসরুল্লাহর। ওই সময় তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের হাউস টিউটর, আইন অনুষদের ডিন ও আইন বিভাগের সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক রব্বানীর প্রকাশিত গবেষণাপত্র ১৯টি, যার সাইটেশন সংখ্যা ৭৯৬। গবেষণাক্ষেত্রে তার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে— সামাজিক উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবিকা, শিল্প সম্পর্ক এবং শ্রম কল্যাণ।
জানা গেছে, অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ইনস্টিটিউট থেকে ব্যাচেলর এবং ১৯৯৪ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে সুইডেনের গোথেনবার্গ ইউনিভার্সিটি থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে আরেকটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে কম অবৈতনিক শিক্ষা বাংলাদেশে, সেটাও নামমাত্র— বাস্তবে খরচ বহন করে পরিবারই
বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। একই বিভাগ থেকে ২০০১ সালে স্নাতক (সম্মান) (প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয়) এবং ২০০২ সালে স্নাতকোত্তর (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত তার অন্তত ৬২টি গবেষণাপত্র দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশ হয়েছে, যার সাইটেশন সংখ্যা ৭৯৯। তার গবেষণা-আগ্রহের মধ্যে রয়েছে এনার্জি, ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, হাইড্রোজেন প্রোডাকশন, বায়োফুয়েল, কার্বন ক্যাপচার এবং ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তার ১০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যার সাইটেশন সংখ্যা ১৩১।
তবে অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের লেখা বিভিন্ন কবিতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এসব লেখায় যৌন ইঙ্গিত, দেহাত্মক উপস্থাপন ও ছবিতে ধূমপানের প্রচারণা নিয়ে কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক এবং ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি মনবুশো নিয়ে জাপানে যান এবং ১৯৯৮ সালে নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রোগ-প্রতিরোধ বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ পর্যন্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৯০টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘কামনার কম্পন’, ‘ইচ্ছার আগুন’— যৌনতায় ভরা উপাচার্যের কবিতা-স্ট্যাটাস, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
জানা গেছে, আনোয়ারুল আজীম আখন্দ নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজি বিভাগে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত গবেষণা রেসিডেন্ট এবং ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। ২০১১ সালে তিনি এই বিভাগের অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। এর আগে তিনি বিভাগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ড. মো. মামুন অর রশিদ। এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এমএস সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১২ সালে কৃষি অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গবেষক হিসেবে তার দেশী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে মোট ২৫টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্বব্যাংক, ইউএসএইডি এবং আইএফএডির মত সংস্থার অর্থায়নে সাতটি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৮৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়নে স্নাতক এবং ১৯৮৭ সালে ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০০২ টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। দেশি-বিদেশি বহু জার্নালে তার ৭৮টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যার সাইটেশন সংখ্যা ৯৫২।
কুবির নতুন উপাচার্যের গবেষণার তথ্য ‘নেই’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম। গবেষণা ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার কথা জানা গেলেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা গবেষণা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সাইটগুলোতে তার গবেষণা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুবির নতুন উপাচার্যের প্রকাশিত গবেষণা পত্রের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার কথা নয়।
জানা গেছে, অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় তিনি মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম) থেকে পোস্ট-কলোনিয়াল লিটারেচারের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। দীর্ঘদিন আনন্দমোহন কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ২০০৭ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ইংরেজি বিভাগে যোগদান করেন। একই সঙ্গে তিনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভাগীয় প্রধান, কলা অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, হল প্রভোস্ট এবং ভর্তি কমিটির অনুষদ প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, বিভাগীয় এডভাইজর, কারিকুলাম কমিটির সদস্য এবং নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রতিষ্ঠানটির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগ থেকে বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরে জাপানের তোয়োহাশি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে ২০০১ সালে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৩০টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক বইয়ের অধ্যায় রচনা করেছেন। কম্পিউটার এবং তথ্য প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহের উপর যৌথভাবে ইংরেজী ভাষায় একটি বইও রচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: বয়স ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না করেই সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার খাতিরে ভিসি হচ্ছেন ড. মামুন
অধ্যাপক হায়দার আলী ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৫ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে যোগ দেন এবং ২০০৭ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগের সভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সভাপতি ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এগিয়ে চার নতুন উপাচার্য
শিক্ষা-গবেষণায় পুরোনো ভিসিদের থেকে তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত চার নতুন উপাচার্য। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তথ্য বলছে, ২০২১ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক মোশারফ হোসেনের ৩৯টি গবেষণাপত্র দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ছয়টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি এবং ১৯৯৮ সালে এমএসসি পাস করেন অধ্যাপক মোশারফ হোসেন। ২০০৯ সালে ভারতের চন্ড্রিগড়ের পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড ডিভিশন অব বায়োটেকনোলজি থেকে বায়োটেকনোলজি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অর্জন করেছেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টিডব্লিউএএস ইয়াং সায়েন্টিস্ট গোল্ড মেডেল এবং ভারতের দ্য অর্কিড সোসাইটি থেকে উষা ভিজ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৮ সালে স্নাতক ও ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ১৯৯৯ সালে নগর পরিকল্পনা, ভূমি ও আবাসন উন্নয়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং ২০১১ সালে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রায় ২ ডজন গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি ২টি বইয়ের রচয়িতা।
জানা গেছে, ড. জাহাঙ্গীর আলম ১৯৯৫ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০২২ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
ইতোমধ্যে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের নিয়োগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন বিভাগের অধ্যাপক। সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিযুক্ত ১১ ভিসির মধ্যে গবেষণায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে তার অন্তত ৯০টি গবেষণাপত্র দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে পিয়ার-রিভিউড জার্নালে।
ড. ইকবাল অধ্যাপনাকালে দীর্ঘদিন বিভাগীয় প্রধান ও ডিনের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৬-০৭ সালে সরকারের বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পিয়ার রিভিউ কমিটি অন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সের সদস্য ছিলেন।
তথ্য বলছে, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল ১৯৮৯ সালে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের তিরুপাতির শ্রী ভেঙ্কাটেশ্বর ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেকানিক্যাল বিভাগ থেকে ব্যাচেলর অব টেকনোলজি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশনের ওপর এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০০ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির ম্যারি কে ও’ কন্নোর প্রসেস সেফটি সেন্টারের ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার ছিলেন। চাকরিজীবনে তিনি বহু স্বীকৃতি ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন প্রতিষ্ঠান যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। একই বিভাগ থেকে ১৯৯৮ সালে স্নাতক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং ২০০৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ২০১০ সালে জাপানের নাগোয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে থার্মো-ফ্লুইড মেকানিক্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েনছেই ইউনিভার্সিটিতে ২০১৫ সালে এবং ইনছিয়ন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ২০১৬ সালে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
১৯৯৯ সালে ডুয়েটে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন ড. জয়নাল আবেদীন। ২০১৩ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি থার্মাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্লুইড মেকানিক্স ও এনার্জি এবং রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশেষজ্ঞ। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার অর্ধশতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপনা ও গবেষণার পাশাপাশি ভিসির দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ডুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং কনসালটেন্সি রিসার্চ অ্যান্ড টেস্টিং সার্ভিস (সিআরটিএস)-এর পরিচালকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্পে কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম উপাচার্য নিয়োগ পেয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি)। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে তার ৪০টির অধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও ৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ভেষজ উদ্ভিদ ও মাটির স্ট্রেপটোমাইসিস প্রজাতি থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক এবং কীটনাশকের অনুসন্ধান নিয়ে তার দূর্লভ গবেষণা কর্ম রয়েছে। এ ছাড়া ড. শামীমের রচিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ‘কৃষিশিক্ষা’ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে পড়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনাকষা হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পর্যায়ে উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৯৭ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯৮ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়েও উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন শেষ করে ড. শামীম শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন দেশি ও বিদেশী গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। শিক্ষা কমিশন ২০০৩-এ গবেষণা সহকারী হিসেবে বেশ প্রশংসিত হন তিনি। সর্বশেষ, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ড. শামীম জাপান সরকারের মনবুশো বৃত্তির অধীনে ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পাবিপ্রবির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল আওয়াল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল ডিসিপ্লিন থেকে ২০০৪ সালে ডিস্টিংশনসহ প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর বেলজিয়ামের লিউভেন ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে অনুপ্রাণ বিজ্ঞানে ডিস্টিংশনসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্চিল কলেজ থেকে ২০১৫ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ড. আওয়ালের ১০টিরও বেশি গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। তিনি ১৯৯২-১৯৯৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০০২ সালে বুয়েট থেকে পানিসম্পদ উন্নয়নের ওপর পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন এবং ২০১০ সালে জাপানের ওকায়ামা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি জার্নালে তার অন্তত ৬৬টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যার সাইটেশন সংখ্যা কমপক্ষে ৫ হাজার ২২৪।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান একজন মৎস্যবিজ্ঞানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ৩০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, অধ্যাপক রোকনুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ১৯৯৮ সালে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৯৯ সালে মৎস্যবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১১ সালে তিনি ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলার হিসেবে বেলজিয়ামের গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানির বিলেফেল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্পেনের জায়েন বিশ্ববিদ্যালয় এবং পর্তুগালের এভোরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যৌথভাবে এমএস ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৪ সালে তিনি জাপানের ইয়োকোহামা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে পরিবেশগত ঝুঁকি-সহ টেকসই জীবনযাপনের উপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন এবং ২০১৬ সালে পরিবেশবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
ড. রোকনুজ্জামান ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করে ২০১৮ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
উপাচার্য ‘প্রশাসনিক পদ’, প্রশাসনিক দক্ষতাই গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যরা শিক্ষা-গবেষণায় তুলনামূলক পিছিয়ে থাকলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদটি একটি প্রশাসনিক পদ। এখানে প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকদের পদায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। বহু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক একাডেমিকভাবে এগিয়ে থাকলেও তারা প্রশাসনিকভাবে দক্ষ হবেন— বিষয়টি এমন নয়। এ ছাড়া ভাল গবেষকরা এ ধরনের পদে এলে গবেষণাও অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই গবেষকের কাছ থেকে প্রাপ্য গবেষণা থেকে দেশ বঞ্চিত হয়।
তবে ‘ভাল একাডেমিশিয়ান না হলেও’ উপাচার্যদের শিক্ষা-গবেষণা সম্পর্কে ভাল ধারণা এবং পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। এই শিক্ষাবিদ বলেন, লক্ষ্য রাখতে হবে যে দল-বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হলেও দেখেশুনে যে দক্ষ ব্যক্তিটাকে দেয়া হয়। একইসাথে উপাচার্যদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত এবং মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের দিকটি খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন ইবি, কুবি, রাবিপ্রবি, পাবিপ্রবি ও ববি প্রতিনিধি)