বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
- টিডিসি রিপোর্ট
- প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৯ AM , আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৫৪ AM

ভোলায় জমি নিয়ে বিরোধের সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে জামাল উদ্দিন হাওলাদার (৬০) নামে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কুঞ্জপট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জামাল উদ্দিন উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাত মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুঞ্জপট্টি মৌজায় মো. ইব্রাহীম রাঢ়ি নামের এক ব্যক্তি ৫ শতক জমি কেনেন। তবে পাশের জমির মালিক মো. আলম ব্যাপারী ওই জমি তার বলে দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে অনেকবার সংঘর্ষ-সংঘাত হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিনেও এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জে্রে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে দুই পক্ষ লাঠিয়াল ভাড়া করে জমি দখল করতে যায়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন হাওলাদার। বিকেলে বরিশালে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘তোমরা মারামারি বন্ধ করো, আমি তোমাদের সমস্যা সমাধান করে দেব।’ এ সময় জামাল উদ্দিনের মাথায় ও শরীরে এলোপাতাড়ি পেটানো শুরু করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু বাড়ি আনার সময় পথে নড়ে উঠলে তাকে আবার বরিশালের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানের চিকিৎসক বিকেল ৫টার দিকে পরীক্ষা করে তাঁকে আবার মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে লিটন বলেন, ‘ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহীম ও আলম ব্যাপারীর মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আমার বাবা সালিসদার হিসেবে সেই বিরোধ মীমাংসা করে বাড়ি আসেন। আপস-মীমাংসা পছন্দ না হওয়ায় ইব্রাহীম বাবাকে আবার ফোন দিয়ে ডেকে নেন। ২০ মিনিট পর আমরা শুনতে পাই, বাবা রাস্তার পাশে পড়ে আছেন। গিয়ে শুনি ইব্রাহীম, তার ছেলে নয়ন, শিপনের ছেলের শাকিল এবং ভেলুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শহীদুল্লাহ হাওলাদারের ভাতিজা হানিফাসহ ১৫-২০ জন মিলে বাবাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।’
এ বিষয়ে ওসি আবু শাহাদাত মোহাম্মদ হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জামাল উদ্দিন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’