মনু মিয়া জামে মসজিদ: মুঘল প্রেমগাথা আর অলৌকিক গল্পে মোড়ানো ৩৫০ বছরের ঐতিহ্য

০৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:৪৯ AM , আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৭:৪৩ PM
মনু মিয়া জামে মসজিদ

মনু মিয়া জামে মসজিদ © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক অবিচল নিদর্শন— মনু মিয়া জামে মসজিদ। প্রায় ৩৫০ বছরের পুরোনো এই মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি এক প্রেমের উপাখ্যান, মুঘল ইতিহাসের অংশ এবং স্থানীয় লোককাহিনির উৎস।

মুঘল আমলে বাংলার সুবেদার ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ শুজা। তার সেনাপতি শেরমস্ত খাঁর পুত্র ছিলেন জবরদস্ত খাঁ, যিনি ইতিহাসে পরিচিত ‘মনু মিয়া’ নামে। তিনি চট্টগ্রামের জমিদার পরিবারে প্রথম বিয়ে করেন খোরসা বানুকে। সন্তান না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তিনি বিয়ে করেন বাঁশখালীর সরল গ্রামের মালকা বানুকে।

এই মালকা বানু ও মনু মিয়াকে নিয়েই রচিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লোকগান— ‘মালকা বানুর দেশে রে, বিয়ের বাদ্য আলা বাজে রে...’

তবে প্রেমের গল্পে চিরস্থায়ী হয়ে থাকেননি তারা। মনু মিয়ার মৃত্যুর পর মালকা বানু ফিরে যান বাবার বাড়ি, আর বারখাইনে থেকে যায় তাদের প্রেমের স্মৃতি হয়ে- একটি মসজিদ।

মনু মিয়ার নির্মাণ করা মসজিদটি তার নামেই পরিচিতি পায়। কিন্তু মসজিদটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন প্রথম স্ত্রী খোরসা বানুর নামে। মসজিদটির স্থাপত্যে মুঘল আমলের ছাপ সুস্পষ্ট—মাঝখানে একটি বৃহৎ গম্বুজ, পাশে কয়েকটি ছোট গম্বুজ, দেয়ালে খোদাই করা কারুকাজ; আয়তন ২০x৪০ ফুট।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লী জাগির আহমদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‌‌‘একবার খেজুর গাছে রস তুলতে গিয়ে দেখি মসজিদের ভিতর থেকে আজান হচ্ছে, আর ভেতরে এক অপার্থিব আলো। পরে গিয়ে দেখি- কিছুই নেই, সব আগের মতো।’

মসজিদের মুয়াজ্জিন এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অনেকেই দাবি করেন, রাতে মসজিদ থেকে গুনগুন করে কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ আসে, আবার কবরস্থানে বাতি জ্বলে উঠে। তবে কাছে গেলে সব শান্ত।’

মসজিদের খতিব কাজী নুরুল আবছার জানান, এই মসজিদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসে মানত নিয়ে। সন্তান লাভ, রোগমুক্তি বা মানসিক শান্তির জন্য এখানে দোয়া করে অনেকে। আশ্চর্যভাবে, অধিকাংশই ফিরে যায় আশানুরূপ ফল পেয়ে।

মসজিদটি দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকলেও ২০১০ সালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে এর আংশিক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। বর্তমানে এটি ফরিদুল হক চৌধুরীর বংশধরদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

মনু মিয়ার মৃত্যুর পর তাকে দাফন করা হয় কাছের কাজীর পাহাড় এলাকায়। মসজিদটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক অনন্য সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে শোলকাটা গ্রামে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘মনু মিয়া মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনে প্রশাসন আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকেও শোকজ
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইউএনওর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, সেই চেয়ারম্যান বরখাস্ত
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
দুদফা সময় বাড়ানোর পর গুচ্ছে মোট কত আবেদন পড়ল?
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
নাহিদ ইসলামকে শোকজ
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে যে কোনো আসনেই ৫ আগস্ট হতে পারে: রুম…
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9