রাবিতে উর্দু বিভাগের ফল বিপর্যয়, সভাপতির কক্ষে তালা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা  © সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।  

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফল প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা লাগিয়ে আন্দোলন শুরু করেন করেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় তারা বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ছাত্র উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিসমূহ লিখিতভাবে গ্রহণ করেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগের শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কম নম্বর দিয়েছেন। হয়েছে। শিক্ষকদের অন্তঃর্কোন্দল, পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, পক্ষপাতিত্ব এবং বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাজার করানোর অভিযোগ

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ জন নিয়মিত ও তিনজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এপ্রিল তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। ৩৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ৩০ জনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন শিক্ষার্থী একটি করে কোর্সে অকৃতকার্য হন। এছাড়া বাকি আটজনের মধ্যে ছয়জন নিয়মিত এবং দুজন অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ফলই প্রকাশিত হয়নি।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। তবে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় মাত্র ছয়জন প্রথম শ্রেণি পেয়েছেন। ওমর ফারুক নামে এক শিক্ষার্থী প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ ৩.৫৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও দ্বিতীয় সেমিস্টারে তার ফল আসেনি। মো. আলম নামে আরেক শিক্ষার্থী প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ ৩.৭৫ পেলেও দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন ২.৬৪। ফৌজিয়া তুরাণী নামে এক শিক্ষার্থী প্রথম সেমিস্টারে ৩.৮৩ পেলেও দ্বিতীয় সেমিস্টারে তিনি পেয়েছেন ২.৭৮। মানিক সুমন প্রথম সেমিস্টারে পান ৩.৬৬ কিন্তু দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন ২.৭৫। প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৯১ পেয়ে প্রথম হন নিশাত তাসনিম। দ্বিতীয় সেমিস্টারে তিনি পেয়েছেন ৩.২৮। এভাবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফল বিপর্যয় হয়েছে।

উর্দু বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের রেজাল্ট খারাপ করে দিয়েছেন। তাদের কথামত না চললে তারা চিহ্নিত করে রাখেন। তারা ক্লাসে আমাদের সরাসরি দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। শিক্ষকদের অন্তকোন্দলের কারণে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের সঙ্গে এমনটা করেছেন। আমি যেমন পরীক্ষা দিয়েছি, তাতে আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, আমার রেজাল্ট না আসার প্রশ্নই আসে না। শিক্ষকদের কাছে ‘প্রাইভেট’ না পড়ার কারণেও ফল বিপর্যয় হতে পারে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, ফল দেখে আমার মনে হয়েছে সত্যিই ফল বিপর্যয় হয়েছে। কিন্তু কেন এমনটা হয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি আমি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানাব। আশা করছি, শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য ফল থেকে বঞ্চিত হবে না। 

এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ন্যায্য। এখানে আসলেই ফল বিপর্যয় হয়েছে। রেজাল্ট শিট দেখে বিষয়টি আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে তাদের অভিযোগ ও দাবিসমূহ দিয়েছে। রোববার তাদের সাথে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ সংবাদ