জবিতে সুযোগ পেয়েও হয়নি, টাকার অভাবে বেরোবিতেও ভর্তি অনিশ্চিত শাহীনের

শাহীন আলম ও তার পরিবার
শাহীন আলম ও তার পরিবার  © ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে লেখাপড়া চালাতে পারেননি শাহীন আলম। এবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবিতে) পরীক্ষা দিয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও আবারও অর্থের অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য আটকে গেছে তার ভবিষ্যৎ।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বুজরুক বাগবাড় গ্রামের ভ্যানচালক তাছির উদ্দিনের ছেলে শাহীন আলম। তারা তিন ভাই এক বোন। তাছির উদ্দিনের জায়গাজমি বলতে কিছুই নেই। অন্যের জমিতে ঘর করে বসবাস করে আসছেন। তার সামান্য আয় দিয়েই চলে সংসার। ছোট বেলা থেকে আর্থিক অনটনের মধ্যেই এইচএসসি উত্তীর্ণ হয় শাহীন আলম।

জানা যায়, শাহীন নুরুল হুদা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে চান্স পেয়েছিল কিন্তু অর্থের অভাবে লেখাপড়া চালাতে পারেনি।

আরও পড়ুনঃ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সুবিধা বঞ্চিত ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী

এবার ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সি ইউনিটে মেধা তালিকায় ৬৮ তম হয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি চলবে ৯-১১ জানুয়ারি। ভর্তির জন্য এখন তার প্রয়োজন ১০ হাজার টাকা। কিন্তু শাহীনের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় সম্ভব নয়।

শাহিন আলম বলেন, দরিদ্র মা-বাবার পক্ষে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সামর্থ্য নেই। পড়াশোনার খরচ চালানোই পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এখন তো ভর্তি আরও অসম্ভব। এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারিনি। এবারও মনে হচ্ছে ভর্তি হতে পারবো না। টাকার অভাবে আমার এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

শাহীন আলমের বাবা বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে নিজে না খেয়ে বেটারে স্কুল কলেজ পড়াইছং। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাইছে। কিন্তু হাতে কোনো ট্যাকা-পয়সা নাই। এজন্য মুই চিন্তা করি কুল পাংনা। কি করিম এলা। গতবার বেটার জন্য এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন তুলেছিলাম সেই দেনায় এখনো টানতেছি। তোমরা আমাদের সাহায্য কর। যাতে মোর বেটা পড়ালেখা চালাই যেতে পারে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাজেদুর রহমান বলেন, শাহীন ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে আসছে। ওর বাবা একজন ভ্যানচালক। এতদিন অনেক কষ্টে লেখাপড়া করিয়েছে। আমাদের সবার প্রচেষ্টা থাকলে ও একটা ভালো কিছু হবে মনে করি।


সর্বশেষ সংবাদ