তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রশ্নে বিভক্ত শিক্ষার্থীরা
- তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
- প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৫, ০৪:১৫ PM , আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৫, ০৪:১৫ PM

সরকারি তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ২৭ বছর ধরে চলমান আন্দোলন গতি পায় গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে। তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে স্মারকলিপি প্রদান, মহাখালী রেলগেট অবরোধ এবং আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত হয়।
এই আন্দোলনের ফলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ট্রলের শিকার হচ্ছেন, এমনকি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সিভি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম তিতুমীর ঐক্য নেতৃত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।
এর ফলে তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়করণ ইস্যুতে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের একাংশ সরকার ঘোষিত “ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়” গঠনের পক্ষে থাকলেও, শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই নিয়ে প্রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে দুই পক্ষ।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিকে অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনের পক্ষে থাকলেও বর্তমানে অনেকেই আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ছাত্রসমাজের সমর্থিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন মহল বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে, এতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। এছাড়াও ট্রল ও আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে অনেক শিক্ষার্থী তাদের পূর্বের অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলন থেকে সরে এসেছে।
যদিও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করে তিতুমীর ঐক্যের দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হাসান বলেন, ‘আমাদের কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থী নিজস্ব তাগিদে আলাদা প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, তবে তারা আমাদের প্রতিটি কর্মসূচির সময় একসাথেই মাঠে ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিতুমীর কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখনো তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। মাত্র গুটিকয়েক শিক্ষার্থী বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রয়েছে। আমাদের আন্দোলন ঈদের পর পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে থাকা শিক্ষার্থী সবুজ মাদবর বলেন, ‘প্রথমে শিক্ষার্থীরা তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের পক্ষে থাকলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়করণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া “তিতুমীর ঐক্য”র সদস্যদের নেতৃত্বের অযোগ্যতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তিতুমীর কলেজের সুনাম সারা দেশের সামনে নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও, কলেজের কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তাই বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে সরে এসে ৭ কলেজ নিয়ে সরকার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের এই বিভক্তি নিয়ে প্রথম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করা ক্যাম্পাস সাংবাদিক আব্দুল্লাহ মজুমদার রাব্বি বলেন, ‘তিতুমীর ঐক্যের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, গণমাধ্যমের সামনে বেফাঁস মন্তব্য ও তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক শিক্ষার্থী তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়করণ আন্দোলন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।’