বিসিএসসহ ৮০ নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির, নেপথ্যে পিএসসির সদস্য সংকট

সরকারি কর্ম কমিশন
সরকারি কর্ম কমিশন  © ফাইল ছবি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ হলেও এখনো সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কার্যক্রমে গতি আসেনি। চেয়ারম্যান এবং আট সদস্য নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। দীর্ঘদিনেও সদস্য নিয়োগ না হওয়ায় থমকে আছে পিএসসির আওতাধীন প্রায় ৮০টি নিয়োগ কার্যক্রম। 

এ বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের কাজের গতি বাড়াতে হলে আরও অন্তত ৬-৮ জন সদস্য দরকার। সদস্যের অভাবে ভাইভা বোর্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাচ্ছে। আমরা সরকারে আমাদের অসুবিধার কথা জানিয়েছি। সদস্য নিয়োগ হলে পিএসসির কাজের গতি বাড়বে।’

জানা গেছে, চেয়ারম্যানসহ পিএসসির সদস্য এখন ৯ জন, আগে ছিলেন ১৫ জন। গত ২ জানুয়ারি নতুন করে ৬ সদস্য নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তাদের শপথ হওয়ার কথা ছিল ৮ জানুয়ারি। নতুন নিয়োগ পাওয়া ৩ সদস্যকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার কারণে প্রথমে তাদের শপথ স্থগিত করা হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন সদস্য বিগত সরকারের ‘ঘনিষ্ঠ’ হওয়ায় এ সমালোচনা হচ্ছিল। পরে জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এই নিয়োগের আদেশ বাতিল করা হয় এবং তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। 

যাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তারা হলেন অধ্যাপক শাহনাজ সরকার, মো. মুনির হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ এফ জগলুল আহমেদ, মো. মিজানুর রহমান, শাব্বির আহমদ চৌধুরী ও অধ্যাপক সৈয়দা শাহিনা সোবহান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় ব্যক্তির নিয়োগ বাতিলের আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই নিয়োগ বাতিলের প্রায় দুই মাস হতে চললেও নতুন করে সদস্য নিয়োগ হয়নি ।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পিএসসির এক কর্মকর্তা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পিএসসির কাজের একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন বিজ্ঞ সদস্যরা। এই সদস্যরা একেকজন একেকটা বিসিএসের দায়িত্বে থাকেন। আবার ইউনিটপ্রধানও থাকেন। বিসিএসের নিয়োগের বাইরে নন–ক্যাডারের নিয়োগ, প্রশ্ন করা, মডারেশন, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা, ফল দেওয়াসহ নানা কাজে থাকেন এই সদস্যরা। তবে সদস্য না থাকায় এই কাজগুলো গতিশীল করা যাচ্ছে। বিসিএসের ক্যাডার, নন-ক্যাডারে নিয়োগে জট তৈরি হচ্ছে।’

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি, ৪৬ এর লিখিত, ৪৫ এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত, ৪৪তম বিসিএসের ৭ হাজার ভাইভা, ৫১৬ পদে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পরীক্ষার কার্যক্রম এখনো শুরু করা যায়নি। এছাড়া ১৫৮ পদে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদের পরীক্ষার কার্যক্রম, সিনিয়র স্টাফ নার্সের ভাইভা, নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভাসহ প্রায় ৮০টি পরীক্ষার ফলাফল পেন্ডিং আছে। এ অবস্থায় সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পিএসসিতে আরও ছয়জন সদস্য নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জানুয়ারিতে নিয়োগ হওয়া কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় এবার জীবনবৃত্তান্তসহ অন্যান্য বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এজন্য সদস্য নিয়োগে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে সদস্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পিএসসিতে নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন করে আর কোনো বিতর্ক যেন না হয়, সেজন্য সুপারিশকৃতদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। আজ অথবা আগামীকালকের মধ্যে পিএসসিতে আরও ৬ জন সদস্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেছ-উর রহমানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


সর্বশেষ সংবাদ