নদী পারাপারে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাসমান সেতু গড়ে দিলেন শিক্ষক

ড্রামের তৈরী ভাসমান সেতু
ড্রামের তৈরী ভাসমান সেতু   © সংগৃহীত

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শালমারা ঘোনাপাড়া গ্রামে সতী নদীতে ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ভাসমান সেতু তৈরি করে দিয়েছেন স্কুলশিক্ষক ইব্রাহিম আলী। এতে ওই এলাকায় প্রায় ১০ হাজার গ্রামবাসীর যাতায়াতের দুঃখ ঘুচেছে। 

সেতুটি তৈরিতে ২০টি ড্রাম, বাঁশের চাটাই ও দড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। 

লালমনিরহাট উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে ঘোনাপাড়া গ্রাম। সেই গ্রামেই শালমাড়া ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের পার হতে হয় সতী নদী। কিন্তু নদীর ওপর যে সেতুটি ছিল, তা ভেঙে যায় বন্যায়। শুকনো মৌসুমে কোনোমতে নদী পার হলেও বর্ষায় স্কুলে যাওয়া একরকম বন্ধই হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম আলীকে।

চন্দ্রপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বোতলা মধ্যপাড়া প্রাইমারি, বোতলা মডেল মহিলা কলেজ, বালাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, আল হেরা কিন্ডারগার্ডেন মাস্টার পাড়া ও একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে। বালাপাড়া, গোড়ল, চন্দ্রপুর, বোতলাসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষও এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: সন্তান একদিন ঢাবিতে পড়বে, চোখজুড়ে স্বপ্ন বুনছে অভিভাবকরা

কৃষক মোবারক আলী বলেন, সেতুটি নির্মাণের ফলে চলাচল সহজ হয়েছে। এটি নির্মাণের আগে পানিতে ভিজে সতী নদী পাড়ি দিতে হতো। এখানে সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছে। কিন্তু, কাজ কবে শেষ হবে জানি না।

প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম বলেন, পুরনো ব্রিজটি ভেঙে ফেলার পরে এলাকার শিক্ষার্থীদের চলাচলের উপায় ছিলোনা। আমি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। কিছুই হচ্ছিলো না। তার পর ঠিকাদারের সাথে কয়েক দফা আলোচনা করি। ঠিকাদার লসের অজুহাতে বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারবে না বলে দেন। এরপর আমার এক বন্ধুর সহযোগীতায় খালি ড্রাম দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করি। এতে ঠিকাদার ১০ হাজার টাকা সহযোগীতা করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, নতুন করে সেতু নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। তবে সতী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।


সর্বশেষ সংবাদ