শিক্ষকদের মানববন্ধনে দুর্বৃত্তদের হামলা, চার শিক্ষক আহত‌

মানববন্ধনে হামলার মুহূর্ত
মানববন্ধনে হামলার মুহূর্ত  © সংগৃহীত

বরগুনায় আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রীদের মানববন্ধনে হামলায় চার শিক্ষক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে জয়নুল আবেদীন নামে একজন শিক্ষকের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মেহেদী নামে একজনবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) জাল সনদধারী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়ার অপসারণ ও শিক্ষকদের বেতন ভাতার দাবীতে বকুলনেছা মহিলা কলেজের সামনে শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রীরা এই মানববন্ধন করছিলো। এ সময় অভিযুক্ত ওই অধ্যক্ষের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায় বলে শিক্ষকরা জানান। 

আহত জয়নুল আবেদীন ওই কলেজের কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

হামলায় জয়নুল আবেদীন ছাড়াও আহত অন্য শিক্ষকরা হচ্ছেন- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রভাষক বশির উদ্দিন, পদার্থ বিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক জলিলুর রহমান। 

এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আক্তার বাদী হয়ে মেহেদী, ফোরকান, জামায়াত নেতা কবির হোসেন ও জলিলকে আসামী করে ছয় জনের নামে থানায় মামলা করেছে। পুলিশ সন্ত্রাসী মেহেদীকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফোরকান মিয়া ১৯৯৯ সালে বিএ (পাস) জাল সনদ দিয়ে আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক পদে চাকরি নেন। ২০১০ সালে তিনি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ওই কলেজের অধ্যক্ষ হন।  অধ্যক্ষ হওয়ার তিন বছরের মাথায় ২০১৩ সালে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এরপর তার ডিগ্রি পাসের জাল সনদের তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে তিনি স্বেচ্ছায় কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত ৮ বছর ফোরকান কলেজের দায়িত্ব থেকে দুরে ছিলেন। 

২০২১ সালের ১২ জুলাই মো. ফোরকান মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফের কলেজের অধ্যক্ষ পদে বসেন। ওই বছর ২৬ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা কমিটি তাকে পুনরায় বরখাস্ত করেন। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জবর দখল করে কলেজের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। এদিকে গত বছরই ওই অধ্যক্ষকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফোরকানের এমন কর্মকাণ্ডে গত বছর নভেম্বর থেকে এ বছর মে মাস পর্যন্ত ৭ মাস কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।

আহত প্রভাষক জয়নুল আবেদীন বলেন, ফোরকান, জলিল, নজরুল, বহিরাগত সন্ত্রাসী মেহেদী ও বাবুল আমার উপরে হামলা করেছে। আমি এ ঘটনায় শাস্তি দাবী করছি।  

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসি আক্তার বলেন, জাল সনদধারী বহিস্কৃত অধ্যক্ষ ফোরকান জবর দখল করে কজেলের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার কারণে গত সাত মাস ধরে শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। ফোরকানের অপসারণ ও বেতনভাতার দাবীতে শিক্ষকরা মানববন্ধন করে। ওই মানববন্ধনে ফোরকানের নেতৃত্বে জামায়াত শিবির ঘরনার কিছু শিক্ষক ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কলেজের শিক্ষকদের উপর হামলা করেছে। এতে চারজন শিক্ষক আহত হয়। এ ঘটনায় শাস্তি দাবী করছি। 

এ বিষয়ে বহিস্কৃত অধ্যক্ষ ফোরকান মিয়া বলেন, আমি মারধর করিনি। উল্টো আমাকে লাঞ্ছিত করেছে।  

বরগুনা পুলিশ সুপার আবদুস সালাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।