ইন্দোনেশিয়ান তরুণীকে ১০১ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন ইমরান

ইমরান ও নিকি
ইমরান ও নিকি  © ফাইল ফটো

দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হলো। পুটয়াখালীর বাউফলের মো. ইমরান হোসেনের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার নিকি উল ফিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। 

বুধবার রাতে সাড়ে ৭টার দিকে ১০১ টাকা দেনমোহরে নিকিকে বিয়ে করেন ইমরান। স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা শহিদুল ইসলাম এই যুগলের বিয়ে পড়ান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

২০১৭ সালে প্রেমের টানে পটুয়াখালীর বাউফলের যুবক ইমরান হোসেনকে বিয়ের জন্য বাংলাদেশের আসেন ইন্দোনেশিয়ান তরুণী নিকি উল ফিদা। ইমরানের বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়ায় ওই সময় ফিরে যেতে হয় তাকে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সোমবার রাতে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে নেমে বুধবার সকালে তরুণের গ্রামের বাড়ি এসেছেন ওই ইন্দোনেশিয়ান তরুণী।

ইমরানের বর্তমান বয়স ২৩ ও নিকি উল ফিদার বয়স ২০ বছর। নিকি উল ফিয়া ইন্দোনেশিয়ার সুরা বায়া বিভাগের জাওয়া গ্রামের মি. ইউলিআনতোর মেয়ে। তার মায়ের নাম শ্রীআনি।

বর ইমরান হোসেন উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খাজুরবাড়িয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। ইমরান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খাজুরবাড়িয়া গ্রামে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িজুড়ে আলোকসজ্জা। চলছে উচ্চ শব্দে গান। চলছে হলুদ বাটার কাজ। বর ও কনে বসে আছেন। এলাকার উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন নবদম্পতিকে দেখতে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন কেউ গানের সঙ্গে নাচ করছেন, কেউ একে অপরের গায়ে হলুদ মেখে উৎসবে মেতে উঠছেন। বরের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকেই মিষ্টি মুখ করানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে গ্রামটিতে একটি উৎবের আমেজ বইছে।

ইমরানের পরিবার বলছে, ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইন্দোনেশিয়ান মুসলিম পরিবারের মেয়ে নিকি উল ফিয়ার সঙ্গে ইমরানের পরিচয় হয়। পরিচয়ের মাধ্যমে বন্ধুত্বের এক পর্যায়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে ওঠে। নিকি উল ফিয়া ইমরানকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইমরানের পরিবার থেকে কোন আপত্তি না থাকায় ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর হযরত শাহ জালাল বিমান বন্দরে নামে। সেখান থেকে ইমরান নিকি উল ফিয়াকে বাউফলের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

ইমরানের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭ সালের ওই সময় ইমরানের বয়স হয় ১৮ বছর। ২১ বছর না হওয়ায় আইনি জটিলতা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যায় নিকি উল ফিয়া। তবে যাওয়ার সময় আমাদের বলেছিল, ইমরানের বয়স না হওয়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করব। আজ অপেক্ষার দিন শেষ।

ইমরানের মা বিথী আক্তার বলেন, ছেলের বৌ বিদেশি হলেও সে মুসলিম পরিবারের মেয়ে। তার আচরণ খুবই সাবলীল। সে আমার শুধু ছেলে বৌ না- সে আমার কাছে মেয়ে হয়ে থাকবে।

ইমরান বলেন, নিকির সঙ্গে আমার যোগাযোগটা অব্যাহত ছিল। ধীরে ধীরে আমরা একে অপরের প্রতি আরো দায়িত্বশীল হয়েছি। দীর্ঘ বছরের অপেক্ষা এখন শুভ পরিণয়। ভাবতেই যেন এ এক অন্যরকম ভালো লাগা।


সর্বশেষ সংবাদ