আমার বাড়িতেও রাত ২টার পর বিদ্যুৎ ছিল না: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ  © ফাইল ছবি

পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর থেকে গভীর রাতে লোডশেডিংয়ের যে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে, তার শিকার খোদ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও। সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানিয়েছেন, গত রাত দুইটার পর তার বাসাতেও বিদ্যুৎ ছিল না। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ধৈর্য ধরার বিকল্প নেই।

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধজনিত কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের উৎপাদন কমিয়ে রাখার যে সিদ্ধান্ত সেটি সক্ষমতার ঘাটতির জন্য নয়। স্পট মার্কেট গ্যাস আমদানি করতে না পারায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তো ভালোই ছিলাম। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে তো আমাদের শতভাগ বিদ্যুতায়ন করে ফেলেছি। মানে শতভাগ বিদ্যুৎ দেয়ার ক্যাপাসিটি আমরা অর্জন করেছি। কে জানত এ ধরনের যুদ্ধ হবে?’

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার দেশের সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি এই খাতের সংকট নিয়ে উঠা নানা প্রশ্ন এবং সমাধান কী, তা নিয়ে কথা বলেন।

গত ১৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত করার ঘোষণা দেয়ার দিন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রতি দিন লোডশেডিং হবে এক ঘণ্টা। কিন্তু পরে হচ্ছিল তিন থেকে চার ঘণ্টা।

পরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অক্টোবর থেকে লোডশেডিং থাকবে না। কিন্তু ৪ অক্টোবর দেশের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর চার বিভাগ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, মধ্যরাতের যে লোডশেডিংয়ের দুঃসহ জ্বালা দেশবাসী এক যুগে ভুলেছিল, ফিরে এসেছে সেই স্মৃতিও।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, তারা লোডশেডিং করাতে বাধ্য হয়েছেন। বলেন, ‘হ্যাঁ, মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কালকে আমার বাড়িতেও রাত ২টার পরে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা সবাই তো এক সঙ্গে। আমি বলব, একটু ধৈর্য ধরেন।’

দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমার মনে হয় যে বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে না। খারাপের দিকে যাচ্ছে এটা সত্যি কথা, তবে বেশি খারাপের দিকে না।’

 

 

 


সর্বশেষ সংবাদ