‘রাবিপ্রবি একদিন বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে’

পর্যটন
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা  © টিডিসি ফটো
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) প্রথম প্রো-ভিসি হিসেবে যোগদান করেছেন অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা। যোগদানের কয়েকমাস অতিবাহিত হওয়ার পরে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে রাবিপ্রবিকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ও আগামীর পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। নবাগত প্রো-ভিসির সৃজনশীল চিন্তা ও নতুন কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে সাক্ষাতকারে তুলে ধরেছেন রাবিপ্রবি প্রতিনিধি আহ্সান হাবীব।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: শুভ দুপুর স্যার। 
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: শুভ দুপুর
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: স্যার কেমন আছেন?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: ভালো আছি।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস:  রাবিপ্রবির প্রথম প্রো-ভিসি হিসেবে যোগদান করেছেন আপনার অনুভূতি কেমন?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনেক কাজ করার সুযোগ আছে পাশাপাশি অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয় ও রয়েছে। সব কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার মাঝে আলাদা আনন্দ ও তৃপ্তি আছে।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস:  বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা কি?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে স্বপ্ন ও পরিকল্পনা দুটোই আছে। একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই প্রত্যাশা করি। শিক্ষার্থীদের জন্য সামনে বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে। ইতিমধ্যে আমরা সেই কাজ গুলো শুরু করে দিয়েছি। রাবিপ্রবি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা হবে বলে আমি মনে করি। মাষ্টার প্লান পাশ হলেই দ্রুত নতুন পরিকল্পনাগুলা বাস্তবায়ন হবে বলে আমি আশাবাদী।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরে বেশকিছু উদ্যোগ সফল ভাবে সম্পন্ন করেছেন।সামনে নতুন কোন কাজ আসার সম্ভাবনা আছে কি?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: বিশ্ববিদ্যালয়ের মাষ্টারিং প্লানের উপরে পুরো বিষয় নির্ভর করছে। মাষ্টার প্লান পাশ হলেই বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া আরো সহজ হবে। অস্থায়ী ভবন করে হলেও  আমরা নতুন কিছু বিভাগ শুরু করতে চাই।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস:  রাবিপ্রবিকে খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড় করাতে আপনার পরামর্শ কি?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: রাবিপ্রবিকে বিশ্বমানের করতে সবার প্রচেষ্টা দরকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ অফিসিয়াল কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবার প্রচেষ্টা পারে রাবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে। মেধা, ইচ্ছাশক্তি ও নিরলশ কঠোর পরিশ্রম দ্বারা রাবিপ্রবি একদিন অনেক দূরে এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যদি নতুন কিছু সংযোগ করতে চান তাহলে কি কি বিষয় সংযোজন করবেন?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: রাবিপ্রবি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভৌগলিক কারণে আলাদা। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি সুন্দর করে সাজানো যায় তাহলে এটা দেশের অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পটের মধ্যে অন্যতম হবে বলে আমি মনে করি। এই বিষয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে। এছাড়া ইউনিক গবেষণার জন্য গবেষণাগার তৈরী করতে চাই যেন গবেষণার কাজে হলেও মানুষ এখানে আসে।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ভবিষ্যতে রাবিপ্রবিয়ানদের কোন অবস্থানে দেখতে চান?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: ভবিষ্যতে রাবিপ্রবিয়ানদের বড় বড় পদে কর্মরত অবস্থায় দেখতে চাই। তারা সরকারি-বেসরকারী, রাজনীতি ও উদ্যোক্ততাদের সামনের লাইন থেকে নেতৃত্ব দেবে। তারা তাদের জ্ঞানের আলো দ্বারা সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করে আলোকিত পৃথিবী গড়বে।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস:  চবি অধ্যাপক নাকি রাবিপ্রবির প্রো-ভিসি কোনটা উপভোগ করছেন?
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: যখন চবি অধ্যাপক ছিলাম তখন ক্লাস নেয়া ও গবেষণার কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতাম। শিক্ষার্থীদের সাথেই দিনের অর্ধেক সময় কেটে যেত। রাবিপ্রবিতে প্রো-ভিসি পদে আসার পরে কাজের চাপ বেড়েছে। রুটিন মেপে অফিসিয়াল কাজ, সেমিনার, মিটিং সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। এখানেও ক্লাস নিতে হয়। এখানকার দ্বায়িত্ব অনেক বেশি ও আরো চ্যালেঞ্জিং ।  চবি ও রাবিপ্রবি দুটিই ভিন্ন বিষয়। তবে এখানে ব্যস্ততা ও আনন্দ দুটিই বেশি।
 
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস:  মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ স্যার।
অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।

x