বাস সংকটে ভোগান্তিতে ঢাবি ছাত্রীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

দুই হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একটি বাস দিয়ে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী হলের পরিবহন সেবা। ফলে নিয়মিত বাদুড়ঝোলা হয়ে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন হলগুলোর শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাস সংকট নিরসনের দাবি জানালেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মেয়েদের কুয়েত মৈত্রী, সুফিয়া কামাল এবং বঙ্গমাতা হল থেকে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। কিন্তু এই তিন হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস বরাদ্দ রয়েছে মাত্র একটি। বাসটি দিনে ৮  বার হল থেকে ক্যাম্পাসে এবং ৭ বার শহীদ মিনার- হলে যাতায়াত করলেও আসন সংখ্যা কম হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হলগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত একতলা বাসটিতে প্রতিবার অন্তত ৮০ থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী উঠেন, যেখানে বাসে সিট সংখ্যা মাত্র ৪০-৪৫ টি। বাকিরা পুরো সময় দাঁড়িয়েই থাকেন। এমনকি কেউ কেউ ঝুলে থাকেন গেটের সাথে। 

আরো পড়ুন: হাইকোর্টে রিট করবে এসএসসি-১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীরা জানান, কলা ভবন থেকে সুফিয়া কামাল হলের রিক্সা ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অপরদিকে কলা ভবন থেকে মৈত্রী ও বঙ্গমাতা হলের রিক্সা ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে শিক্ষার্থীরা দাড়িয়ে, বাদুড়ঝোলা হয়ে বাসে যাতায়াত করে। আবার , অনেকসময় বাসে দাঁড়ানোরও জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে হেঁটেই হলে যাতায়াত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গমাতা হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রীরা সকাল ৮:৪০ এর বাসের জন্য ৮:২০ থেকেই অপেক্ষা করে জায়গা পাওয়ার জন্য। কিন্তু তবুও জায়গা পায় না। অন্তত ৮০ জন ছাত্রী একটি বাসে উঠে। অনেক মেয়ে বাসে জায়গা না পেয়ে রিক্সায় ৪০/৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ক্লাসে যায়। অনেকে আবার হেঁটেও যায়। অনেকে বাস না পেয়ে ক্লাসে যাওয়াই বাদ দিয়ে দেয়। 

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, খুব খারাপ একটা অবস্থার সৃষ্টি হয় বাসের মাঝে। দুটি হলের আলাদা বাস দেয়া নিয়ে প্রশাসনের কোনো খেয়াল নেই। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য পদক্ষেপ নেয় না।

ঢাবি শিক্ষার্থী সংসদ পেইজে মাহমুদা নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “ক্যাম্পাসের বাইরে মেয়েদের ২টা হল। তাদের জন্য ৪০ সিটের ১টি বাস। বাসে একটুখানি জায়গা করে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা ৮৫+ মেয়ের। গেইটের কাছে ঝুলতে ঝুলতে ২টা সিগনাল পার করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া। এভাবেই চলছে আমাদের প্রতিটি দিন।”

আরো পড়ুন: এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা ১৮ মার্চ

জান্নাতুল ইসলাম মীম নামে অপর একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, “এই যে মেয়েদের দুইটা হল ক্যাম্পাসের বাহিরে, এরা কি আদৌ নিরাপদ! প্রশাসন থেকে বাস দেয়া আছে কিন্তু সে বাসের শিডিউল বাসের ড্রাইভার ব্যতীত কারোরই জানা নেই। মেঘ থেকে দু'ফোটা বৃষ্টি পড়লে কিংবা সূর্যের উত্তাপ একটু বেশি হলে, সে বাসের দেখা মেলে না। বাসের আসন কম তাই সবাই যেতেও পারে না হলের বাসে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা হল প্রশাসন কেউই বাস বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা কেবল রাত ৯:৫৯ এর পর হলে প্রবেশ নিষেধ তা বাস্তবায়নেই ব্যস্ত।”

এ বিষয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক  ড. নিলুফার পারভীনরে সাথে যোগাযোগ করা হলে হলে তিনি কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার বলেন, "হলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অসুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই আছে৷ তবে পূর্বে সমস্যা আরো বেশি ছিলো। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা ট্রিপ বৃদ্ধি করলেও তার সমাধান না হওয়ায় আমি বেশ কয়েকবার ভিসি স্যারের সাথে কথা বলেছি। আগামীকাল আবারও বাসের ব্যাপারে কথা বলতে যাবো। আমরা পরিবহন ম্যানেজারের সাথে কথা বলেছি। শীগ্রই নতুন বাস সংযোজন করা হবে বলে ভিসি স্যার ও পরিবহন ম্যানেজার আশ্বাস প্রদান করেন।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার কামরুন হাসান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি অনেক আগেই। সেখানে বাস সংকট রয়েছে। তবে আমাদের বাস কেনায় বাধা আছে সরকারের পক্ষ থেকে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা মাননীয় ভিসি ও প্রক্টর মহোদয়ের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। আমরা নতুন বাস কেনা বা ভাড়ায় বাস বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমরা হলগুলোতে বাসের ট্রিপ বৃদ্ধির পাশাপাশি  নতুন বাসা সংযোজনের চেষ্টা করবো


সর্বশেষ সংবাদ