শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: লক্ষ্য যাদের ঢাবি ‘গ’ ইউনিট

ভর্তি পরীক্ষা
প্রস্তুতি কম/বেশী যাই থাকুক না কেন, নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে পরীক্ষা দিতে হবে  © টিডিসি ফটো

ছাত্রজীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষার কথা যদি বলি তাহলে সবার আগে আসে ভর্তি পরীক্ষার কথা। আর সেটি যদি হয় স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, তাহলে তো কথাই নেই। কিছুদিন পরেই ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার ঠিক আগ মূহুর্তে এসে অনেকেই অনেক রকম প্রশ্নের সামনে এসে দাঁড়ায়। তাই আজ কথা বলব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গ' ইউনিটের শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি নিয়ে। প্রথমেই জেনে নেই— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিট সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

গ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ)

তোমাদের পরীক্ষার তারিখ:  ২২ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার, সকাল ১১:০০-১২:৩০টা

✔আসন সংখ্যা: ১২৫০টি

ভর্তি পরীক্ষার নম্বর ও সময় বিন্যাস:

✔ভর্তি পরীক্ষার নম্বর: ১০০ ও  সময় : ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট

ক. এমসিকিউ ( MCQ) : ৬০ নম্বর, সময়: ৪৫ মিনিট

☞লিখিত পরীক্ষা: ৪০ নম্বর, সময়: ৪৫ নম্বর

ক. MCQ অংশ: (প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে)

ব্যবসায় শিক্ষা-

বাংলা (আবশ্যিক) - ১২×১=১২

ইংরেজি (আবশ্যিক) - ১২×১=১২

হিসাববিজ্ঞান ( আবশ্যিক) -১২×১=১২

ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ ( আবশ্যিক)-১২×১=১২

মার্কেটিং/ ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ( যেকোনো ১টি) -১২×১=১২

(মোট ৫ বিষয়: ৬০ নম্বর)

আরও পড়ুন:  ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা: ইংরেজির জন্য যা পড়বেন, যা বাদ দেবেন

A Level-

English ( compulsory) - 16

Advance English (compulsory)-12

Business Studies * - 16

Accounting * - 16

Economics * - 16

* Business Studies, Accounting ও Economics এ ০৩টি বিষয় থেকে যেকোনো ০২টি বিষয়ে উত্তর করতে হবে।

খ. লিখিত অংশ:

ব্যবসায় শিক্ষা-

বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ- ৫×১= ০৫

ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ- ৫×১=০৫

বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রকাশ (ইংরেজি)-৫×১= ০৫

Precis writing - ১×৫= ০৫

সংক্ষিপ্ত রচনা ( বাংলা)- ১×৫= ০৫

পাঁচটি আবশ্যিক বিষয় থেকে

 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর- ৫×৩=১৫

মোট: ৪০ নম্বর

A Level-

Essay writing- 1×5=05

Precis writing- 1×5=05

Letter writing- 1×5=05

Definition of concepts- 5×1= 05

Short questions from Compulsory subject- 5×4= 20

Total: 40 marks

✔ পাস নম্বর:

Ø  MCQ অংশে ইংরেজিতে নূন্যতম ০৫ এবং সর্বমোট ২৪ নম্বর পেতে হবে।

Ø  লিখিত অংশে নূন্যতম ১১ নম্বর।

Ø  তবে MCQ ও লিখিত উভয় অংশ মিলে নূন্যতম ৪০ নম্বর পেতে হবে।

MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে মেধানুক্রমানুসারে আসন সংখ্যার নূন্যতম ০৩ গুণ প্রার্থীদের লিখিত উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

✔ মেধাস্কোর:

ভর্তি পরীক্ষার নম্বর-১০০

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল- জিপিএ-৫ ×২=১০ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল- জিপিএ-৫×২=১০। সর্বমোট: ১২০ নম্বর। 

উপরের তথ্যগুলা কারো কারো জানা আবার কারো হয়তো অজানা। এখন কথা হচ্ছে শেষ মূহুর্তে এসে কিভাবে পড়বো, কি করবো, কিভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবো ইত্যাদি। করোনা মহামারীর কারণে এবারের ভর্তি পরীক্ষা অনেক দেরি করে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পেয়েছে নিজেকে প্রস্তুত করে তোলার জন্য, আবার অনেকে হয়তো নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে অসম্ভাবনার মাঝে। বার বার ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর কারনে অনেকে হয়তো হতাশ হয়েছে। যেহেতু সবকিছুর পর এসে পরীক্ষা হচ্ছে সবাইকে অবশ্যই অবশ্যই পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঢাবি ভর্তি প্রস্তুতি: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যেও গুরুত্ব দিতে হবে

কিভাবে প্রস্তুতি নিবো?

নতুন করে প্রস্তুতি নেয়ার মতো এখন কিছু নেই। সবাই অবশ্যই এতদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে আসছ। কেউ কোচিং করেছ কিংবা কেউ বাসায় থেকে নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছ। তাই সবার জন্য একটাই সাজেশন থাকবে-

* শেষ সময়ে এসে সবগুলা বিষয় ভালোভাবে রিভিশন দেয়ার চেষ্টা করবা। 

* বিভিন্ন মডেল টেষ্ট পাওয়া যায় বাজারে, চেষ্টা করবা প্রতিদিন একটা করে পরীক্ষা দিতে। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় রাখবা পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে যাচাই করার জন্য আর সময়টা সকাল ১১-১২ টার দিকে রাখার যেহেতু ওই সময়ে খুব একটা পড়া হয় না।

* বিগত সালের প্রশ্নগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

* শেষ মুহূর্তে ইংরেজির Vocabulary মুখস্ত করার কাজ বাদ দিতে হবে। আগে আয়ত্ত্ব করা শব্দার্থগুলো পড়তে হবে, ইংরেজি প্রথম পত্রের মূল বইয়ের অনুচ্ছেদগুলো বারবার পড়তে হবে এবং সারাংশ বুঝার চেষ্টা করতে হবে।

 শেষ কয়টা দিন নিজেকে কিভাবে তৈরি করবো?

শেষ সময়ে এসে নতুন করে নিজেকে তৈরি করার মতো তেমন কিছু নেই। এতদিন যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছ, এখন সেগুলো রিভিশন দেয়ার সময়। যে যেভাবেই পড়েছ, কোচিং করে কিংবা বাসায় বসে, এখন সবগুকা বিষয় ভালোভাবে রিভিশন দেয়ার সময়। এক্ষেত্রে যেহেতু ‘গ’ ইউনিটে ইংরেজি নিয়ে সবার ভয় থাকে, চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন একবার হলেও ইংরেজি নিয়ে বসা। পাশাপাশি অন্য একটা সাবজেক্ট পড়বা। এডমিশনের এই সময়টায় আমিও এই রকম পদ্ধতিতে পড়তাম। আগে থেকেই প্ল্যান করে রেখেছি কোনদিন কোন বিষয় রিভিশন শেষ করবো আর সাথে প্রতিদিন ইংরেজি একটু হলেও পড়বো। যা-ই হোক, শেষ মূহুর্তে এসে একটু কষ্ট করে হলেও সবগুলা বিষয় ভালোভাবে রিভিশন দিয়ে নিতে হবে।

সর্বোপরি, পরীক্ষা নিয়ে কিছু কথা বলবো। পরীক্ষা নিয়ে মোটেও হতাশ হওয়া যাবে না। তোমার প্রস্তুতি কম/বেশী যাই থাকুক না কেন, নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে পরীক্ষা দিতে যাবা। বন্ধু-বান্ধব বা অন্যরা কে কি করছে না দেখে নিজের পরীক্ষার দিকে সম্পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবা, ভর্তি পরীক্ষা একটা যুদ্ধের মত আর তোমাকে অবশ্যই যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য লড়তে হবে। তোমার আত্নবিশ্বাসই তোমাকে যুদ্ধ জয়ে সহায়তা করবে। সবার জন্য শুভকামনা। ক্যাম্পাসে দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


মন্তব্য

x