০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৫

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আইসল্যান্ড হতে পারে আপনার পছন্দের একটি দেশ

আইসল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীরা জেনে নিন দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার খুঁটিনাটি  © সংগৃহীত

ইউরোপের অন্যতম উন্নত একটি দেশ আইসল্যান্ড। এটি নর্ডিক দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আইসল্যান্ডের সমৃদ্ধ সামাজিক অবকাঠামো ও শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি আইসল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থাও বেশ উন্নত। তাদের রয়েছে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়। আইসল্যান্ডে মূলত সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনেরই বিশ্ববিদ্যালয় আছে। শিক্ষার্থীরা চাইলেই যেকোনোটিতে অ্যাডমিশন নিতে পারে। অন্যান্য দেশের তুলনায় আইসল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুলনামূলক কম খরচে পড়াশোনা করা যায়।

বর্তমানে আইসল্যান্ডে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ, আইসল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ। রয়েছে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের অধীনে পড়াশোনার সময় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ফুল-টাইম কাজ করতে পারেন এবং নির্ধারিত একাডেমিক বিরতিতে বেশি সময় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তাছাড়া আইসল্যান্ডে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাচেলর, মাস্টার ও পিএইচডি ডিগ্রি নিতে পারবেন। পাবেন বিভিন্ন শর্ট কোর্স ও ডিপ্লোমা করার সুযোগ। তুলনামূলক কম খরচেই আইসল্যান্ড থেকে পড়াশোনা শেষ করে আসতে পারবেন আপনি। আবার পড়াশোনা শেষে আপনি আইসল্যান্ডে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের employment-seeking residence permit-এর জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন, যদি আইসল্যান্ডের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর, মাস্টার বা ডক্টরাল ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন। যা দিয়ে আপনি চাকরি খুঁজে নিতে পারবেন। পাশাপাশি যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সবদিক বিবেচনায় আপনার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আইসল্যান্ড হতে পারে পছন্দের একটি দেশ।

আইসল্যান্ড সাধারণত বছরে ২ সেশনে আবেদন করা যায়। বছরে সাধারণত দুটি সেমিস্টার হয়ে থাকে। ১. ফল সেমিস্টার: আগস্ট/সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, ২. স্প্রিং সেমিস্টার: জানুয়ারি থেকে মে। কিছু কিছু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বছরে দুইবারও ভর্তির সুযোগ দেয়। ব্যাচেলর ডিগ্রির মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে চার বছর, মাস্টার ডিগ্রির মেয়াদ দুই বছর এবং ডক্টরাল ডিগ্রি সাধারণত তিন বছর বা তার বেশি সময়ের হতে পারে।

আইনতভাবে স্বীকৃত আইসল্যান্ডে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত বেসরকারি ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮০০০। এর মধ্যে ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো:

*অ্যাগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ড (Agricultural University of Iceland); 

*বিফরোস্ট ইউনিভার্সিটি (Bifröst University);

*হোলার ইউনিভার্সিটি কলেজ (Hólar University);

*আইসল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস (Iceland University of the Arts);

*রায়েকজাভিক ইউনিভার্সিটি (Reykjavík University);

*ইউনিভার্সিটি অব আকুরেরি (University of Akureyri);

*ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ড (University of Iceland);

আরও পড়ুন: জার্মানির সেরা পাঁচ স্কলারশিপ সম্পর্কে জেনে নিন

আবেদনের যোগ্যতা

১. স্নাতকে আবেদনকারীকে একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সমমান শেষ হতে হবে। অবশ্যই ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে।

২. স্নাতকোত্তরে আবেদনকারীর ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে।

৩. ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। IELTS- এ সাধারণত ৬.৫ অথবা TOEFL’র CBT-তে ২১৩ বা IBT-তে ৭৯ থেকে ৮০ পয়েন্ট হতে হবে।PTE Academic ৫৮; তবে programme ভেদে requirement ভিন্ন হতে পারে।

৪. আইসল্যান্ডে কোনো কেন্দ্রীয় ভর্তির ব্যবস্থা নেই এবং আবেদনকারীদের অবশ্যই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদনের সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পৃথক হলেও সাধারণত Spring পড়ে।

৫. কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আবেদন ফি-ও প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষা: জেনে নিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুল-ফ্রি ১৬ স্কলারশিপ সম্পর্কে

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

১. শিক্ষাগত কাগজপত্র: সনদপত্র, নম্বরপত্র, প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রশংসাপত্রের সত্যায়িত ফটোকপিসহ মূলকপি।

২. পাসপোর্ট: বৈধ পাসপোর্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়/ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রমাণপত্র বা অফার লেটার।

৩. আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্র।

৪. টিউশন ফি-র ব্যাংক ড্রাফট: বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ফি ভিন্ন হয়ে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে registration/processing fee দিতে হয়।

৫. ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণপত্র।

৬. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুলিশ ছাড়পত্র বা ক্লিয়ারেন্স।

আরও পড়ুন: জেনে রাখুন বিশ্বসেরা ২৯ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

টিউশন ফি

ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আইসল্যান্ডে টিউশন ফি তুলনামূলক কম। আইসল্যান্ডের বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে কোনো টিউশন ফি নেয় না, শুধু বছরে একবার রেজিস্ট্রেশন/অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। তবে ২০২৭ সালের Autumn semester থেকে EEA/EFTA ও Switzerland-এর বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে tuition fee চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের Autumn semester-এ পড়াশোনা শুরু করা শিক্ষার্থীদের ওপর এই নতুন tuition fee প্রযোজ্য হবে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে টিউশন ফি দিতে হয়, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন।

উদাহরণ হিসেবে, University of Iceland-এ ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে বার্ষিক registration fee ১০০,০০০ ISK এবং EEA/EFTA-এর বাইরের আবেদনকারীদের জন্য ২০,০০০ ISK processing fee রয়েছে।

আপনি চাইলে স্কলারশিপ নিয়েও পড়তে যেতে পারেন আইসল্যান্ডে । সাধারণত আইসল্যান্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতি বছর বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ অফার করে থাকে। স্কলারশিপগুলো শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। ভর্তি ও স্কলারশিপ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে আপনাকে ।

আরও পড়ুন: নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার সেরা ৫ স্কলারশিপ

আইসল্যান্ডে যেসব বিষয় পড়ানো হয়

অ্যাকাউন্টিং, অডিটিং, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ফিন্যান্স, এইচআরএম, মার্কেটিং, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট, স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট, ল, পাবলিক হেলথ, পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসি, ফিজিক্স, নিউট্রিসন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স, ম্যাথমেটিকস, বায়োলজি, ইকোনমিক্স, জিওগ্রাফি পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ন্যাচারাল হিস্ট্রোরি, পলিটিক্স, প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন, নার্সিং, মেডিসিন সায়েন্স, ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালটি, স্পোর্টস সায়েন্স, মাল্টিমিডিয়া ফ্যাশন, ফিল্ম, ফাইন আর্টস, অডিও ইঞ্জিনিয়ারিংসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।