ডাকসু নির্বাচন

কর্মসূচির ডাক ছাত্র অধিকারের, আগেই ক্রিকেট খেলা শুরু ছাত্রলীগের

ডাকসু ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
ডাকসু ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা  © সংগৃহীত

অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে ডাকসু ভবনের সামনে কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ছাত্র অধিকার পরিষদ। কিন্তু সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে মানববন্ধন করলেও সেখানে এসে ‘ভুয়া ভুয়া, হইচই, মিথ্যা গালগল্প বলছে’ বলে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

জানা যায়, ছাত্র অধিকার পরিষদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি ডাকসু ভবনের সামনে ছিল। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগের কর্মীরা অবস্থান করে ক্রিকেট খেলছিলেন পরবর্তীতে স্থান পরিবর্তন করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে কর্মসূচি পালন করে অধিকার পরিষদ। তবে সেখানেও ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে তাদের ঘেরাও করে। পরবর্তীতে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। 

ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামীন মোল্লা বলেন, আজকে প্রমাণিত হয়ে গেলো ডাকসু কেন হয়না। ডাকসু হলে ছাত্রলীগ কোথাও জিততে পারবে না। লোক লজ্জায় মিডিয়ার সামনে তারা ডাকসু চায় বললেও ডাকসুর দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগেই তারা ডাকসু ভবনের সামনে ক্রিকেট ব্যাট, স্টাম্প, লাঠি সোঠা নিয়ে  অবস্থান নেয়। আমরা অবস্থান পরিবর্তন করে রাজুতে দাঁড়ালে সেখানে এসে বাইক দিয়ে হর্ণ বাজানো, গিয়ার দিয়ে শব্দ দূষণ করা, অশ্রাব্য কটুক্তি করে শ্লোগান দিয়ে বাধাগ্রস্ত করে। 

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ সারাদেশে শিক্ষাঙ্গণকে র‌্যাগিং, যৌন নিপীড়ন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি সহ সব ধরনের অপরাধ অপকর্মের ক্যান্সারে রুপান্তরিত করেছে। তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাক্ষান করেবে তা আরো সুস্পষ্ট হয়েছে। আর এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রেখেছে; কেননা তারা ছাত্রলীগের মাধ্যমে একচ্ছত্রভাবে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ডাকসু শিক্ষার্থীদের বৈধ প্লাটফর্ম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের যোগসাজশে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র ত্রাস বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই নির্বাচন বন্ধ রেখেছে। কেননা নির্বাচন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে ভোট দেবে না। সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। 

ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে সবথেকে বড় বঞ্চিত অংশই হলো শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি সব নির্বাচন হয়, হয় না শুধু ডাকসু নির্বাচন। অথচ শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই ছাত্র সংসদের জন্য ফি দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, ডাকসুই শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিষয়, ঐচ্ছিক কিছু নয়। ডাকসু নির্বাচন না করাটা প্রশাসনের নৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা শুধু শিক্ষার্থীদেরই অবহেলিত রেখেছে। তাই, আমাদের দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। যদি তা না হয়, তবে ছাত্রদের সাথে সর্বাত্মক আন্দোলন যাওয়া হবে। প্রয়োজনে আমরা আদালতের দারস্থ হবো।

কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক রাসেল আহমেদ, বিজ্ঞান সম্পাদক আখতারুজ্জামান সম্রাট, ঢাবি শাখার সেক্রেটারি আহনাফ খান সাঈদ, যুগ্ম সম্পাদক নুসরাত তাবাসসুমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।