তালা ভাঙার পর এবার রুম দখলের চেষ্টা, দুই পক্ষে হাতাহাতি
ঢাকা ডেন্টাল কলেজের মিরপুর ছাত্রাবাসের একটি কক্ষ দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (১৩ মে) তালা ভেঙে কক্ষটিতে প্রবেশ করার পর সকালের মধ্যে রুম ছাড়তে হুমকি দিয়েছিলেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পুনরায় কক্ষটি দখল নিতে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে সহকারী হোস্টেল সুপারের হস্তক্ষেপে সাময়িক মীমাংসা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের মিরপুর ছাত্রাবাসের নিচতলার ১১৬ নম্বর কক্ষটি নিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত। কক্ষটি মূলত অতিথি কক্ষ হিসেবে নির্ধারিত। তবে কোনো কোনো ব্যাচে ছাত্র সংখ্যা বেড়ে গেলে এই কক্ষেও আবাসন বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। কক্ষটিতে বর্তমানে তিনজন বাস করছেন।
ভুক্তভোগী তিনজন কলেজের ৬১ ব্যাচের (২০২৩-২৪ সেশন) শিক্ষার্থী। অপরদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— ৫৮তম ব্যাচের আবরার জাওয়াদ, সানাউল্লাহ অনিক, মৃণাল কান্ত রায় ও অর্ণব সাহা। তারা তিনজনই কলেজের সোবহানবাগ হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঘোষিত কোনো কমিটি না থাকলেও অভিযুক্তদের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। এ ছাড়া ঘটনার সময় তাদের সঙ্গে ৬১ ব্যাচের ব্যাচ মনিটরসহ আরও বেশ কয়েকজন অংশ নেন।
আরও পড়ুন: হোস্টেলে সমকামিতা: দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, খাটলেন জেল
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটা-তিনটার দিকে আবরার, মৃণাল ও অর্ণবসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিরপুর হোস্টেলে আসেন। সে সময়ে ১১৬ নম্বর কক্ষটিতে কেউ ছিলেন না। তারা ৬১ ব্যাচের ব্যাচ মনিটরের মাধ্যমে ওই কক্ষের আবাসিক ছাত্রদের কল দেন। তাদের ৫ মিনিটের মধ্যে কক্ষে আসতে বলেন। তবে ভুক্তভোগীরা অপারগতা প্রকাশ করলে তালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। একইসঙ্গে মুঠোফোনে তাদের বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে কক্ষ ছাড়তে হুমকি দিয়ে যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সহকারী হোস্টেল সুপার ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানান শিক্ষার্থীরা। তারা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, সহকারী হোস্টেল সুপার বিষয়টি সমাধানে শনি অথবা রবিবার পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু আজ দুপুর দুইটার দিকে আবারও হোস্টেলে আসেন অভিযুক্তরা। ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জোর করে বের করে দিতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে এলে দুই পক্ষে হাতাহাতি শুরু হয়।
আরও পড়ুন: সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার চড়-থাপ্পড়, চেয়ার ছুড়ে মারধর
প্রত্যক্ষদর্শী একজন শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গতকালই তারা হুমকি দিয়ে গিয়েছিল ওই রুমের তিনজনকে। আজকে তারা একেবারে ইনটেনশন নিয়ে এসেছিল যে ওদেরকে বের করে দিবে। এ সময় একজন ছিল রুমে। ওকে সাত-আটজন মিলে মারতে গেছে। এ সময় একজন আটকাতে গেলে জুনিয়ররাও তার গায়ে হাত তুলেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি একটু শান্ত আছে। তবে যে কোনো সময় আবার খারাপ হতে পারে।
তিনি বলেন, মূলত তারা ওই রুম থেকে ওদেরকে বের করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছে। সবাইকে একটু ডমিনেট করার চেষ্টা করছে। হল সুপার বা কলেজ প্রশাসনও দ্বিচারিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন এই প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: আবাসন সুবিধা না থাকায় ক্লাস শুরুর ৫ দিনের মাথায় বাড়ি যেতে হলো নবীন শিক্ষার্থীদের
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী একজন ছাত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গতকাল তারা রুমে এসে পাঁচ মিনিটের সময় দিয়ে ওই তিনজনে রুমে আসতে বলে। কিন্তু তারা আসতে না পারায় তালা ভেঙে রুমে ঢোকে। এরপর তাদের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে দিয়ে যায়। একইসাথে তাদেরকে রাতের মধ্যে রুম ছাড়তে হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, হল সুপারের নির্দেশে রুমের তালা ভাঙা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। কিন্তু এ ঘটনায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা হল সুপারকে ফোন দিয়ে পাননি। পরে সহকারী হল সুপারকে বিষয়টি জানালে তিনি সমাধানের জন্য শনিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অফিশিয়াল নির্দেশ না পেলে ওই তিন ছাত্রের রুম ছাড়ার দরকার নাই। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্তরা আবার দলবল নিয়ে আসেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে মুয়াজের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থাকেন নাফিউল
প্রত্যক্ষদর্শী এই শিক্ষার্থী বলেন, মূলত অতিথিকক্ষে দুটি আলাদা রুম আছে। কোনো ব্যাচে বেশি ছাত্র ভর্তি হলে তখন গেস্টরুমেও সিট বরাদ্দ দেয়া হয়। আমাদের ব্যাচে ছাত্র একটু বেশি হওয়ায় হোস্টেল সুপার রুমে অ্যালটমেন্ট দিয়েছিলেন। পরে ব্যাচে লটারির মাধ্যমে ভুক্তভোগী তিনজন ওই রুম বরাদ্দ পান। এছাড়া অতিথিকক্ষের ভেতরেই পাশের রুমে আরও দুজন ছাত্র অবস্থান করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা কেবল ওই কক্ষটিই দখল করতে চাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অর্ণব কান্ত রায় ও মৃণাল সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। আবরার জাওয়াদ গাড়িতে থাকায় পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে হোস্টেল সুপার ও সহকারী হোস্টেল সুপারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল আওয়াল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা বলছিল যে, স্যার এরকম এরকম, আমাদেরকে চলে যেতে বলেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম হল সুপার কী বলেছে, তারা বলল যে হল সুপার বলেছে শনিবার বা রবিবারে আমরা বসে ঠিক করে দেব। এখন পর্যন্ত এমনটিই হওয়ার কথা। আজকে কিছু হয়েছে কিনা— আমি জানি না। হোস্টেল সুপারের সঙ্গে কথা বলে দেখব।