মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার চার বছর আজ

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী
মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী  © সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী হত্যার চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের এই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়। মৃত্যুশয্যায় তিনি খুনিদের বিচার দাবি করে গিয়েছিলেন। বিচারও হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ১৬ আামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় প্রকাশের পর তা কার্যকরের জন্য ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে শুনানির জন্য নথিভুক্ত হওয়ার চার বছরেও তা কার্যতালিকায় আসেনি।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ভেতরে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা দেশ-বিদেশের আলোচিত ঘটনা ছিল। ওই বছরের ২৭ মার্চ মাদরাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নিজ অফিসকক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করলে ওই দিনই অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সিরাজের অনুসারীরা নুসরাতকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। 

নুসরাত রাজি না হলে তাঁর হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে সন্ত্রাসীরা সরে পড়ে। তাঁর চিৎকারে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর স্থানান্তর করা হয় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় সেখান থেকে নুসরাতকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সেখানেই চার দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় থেকে মারা যান তিনি।

১০ এপ্রিল বিকেলে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল মাঠে নামাজে জানাজা শেষে তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।  

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানার দণ্ডে দণ্ডিত করেন।

আরও পড়ুন: মুক্তি পাচ্ছেন না শিশুবক্তা রফিকুল

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, মাদ্রাসার শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, নুরউদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।

পরে আসামিদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে আটকে আছে আপিলের শুনানি।


সর্বশেষ সংবাদ