১১ মেডিকেলে হচ্ছে ২০ হোস্টেল, বাড়ল মেয়াদ ও ব্যয়
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘১০টি মেডিকেল কলেজের ১৯টি হোস্টেল নির্মাণ’ প্রকল্পের সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, এই প্রকল্পে হোস্টেল সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রস্তাবিত ব্যয় ও নির্মাণের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ১০ মেডিকেলের ১৯ হোস্টেলের জায়গায় ১১ মেডিকেলে মোট ২০টি হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। যার ব্যয় ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৭৫ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা থেকে ২০১ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন মাসে সমাপ্ত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদ ধরা হয়েছে ডিসেম্বর ২০৩০।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ৪ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের ৩ বছর শেষ হয়েছে গত মাসে। তবে এ পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ১০ শতাংশ। মূলত আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে নেওয়া প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ধাপে ধাপে শুরু হয়েছে গত বছরের জুনে। অবশ্য কাজ শুরুর পর এক বছরে ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। এ ছাড়া কাজ শুরুর পর কিছু অসঙ্গতির কারণে বেশ কিছু পরিবর্তনও আনা হয় এই প্রকল্পে।
আরও পড়ুন: বদলে যাচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের চিত্র, একনেকে ১১৫৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন
প্রকল্প গ্রহণের সময় ১০টি ছাত্রী এবং ৯টি ছাত্র হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পে প্রথমে ছিল ১০টি মেডিকেল। এগুলো হলো—রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। তবে শেষ পর্যন্ত অপর একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হতে থাকায় কুমিল্লা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের দুটি হোস্টেল এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ দুটি হোস্টেলের জায়গায় যুক্ত হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দুটি হোস্টেল। একই সঙ্গে এই প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজের একটি ছাত্রী হোস্টেল।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছে, প্রকল্পে দুটি হোস্টেল বাদ দিয়ে নতুন করে ৩টি হোস্টেল যুক্ত করায় এগুলো বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১৮ মাস সময় প্রয়োজন হবে। ফলে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ১০ মেডিকেল কলেজের ১৯ হোস্টেল প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে। প্রকল্পের শিরোনাম একই থাকলেও এখন মূলত ১১ মেডিকেল কলেজের ২০টি হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। হোস্টেল সংযোজন-বিয়োজনের কারণে মেয়াদ এবং প্রস্তাবিত ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪ বছরের প্রকল্পের ৩ বছর শেষ, ‘সিস্টেম লসে’ অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ
১৯ হোস্টেল প্রকল্প ছাড়াও একনেক সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ১৫ তলাবিশিষ্ট তিনটি এবং ৪ তলাবিশিষ্ট দুটি ভবন নির্মাণ করা হবে প্রতিষ্ঠানটিতে। ২০৩০ সালের আগস্ট পর্যন্ত অনুমোদন হওয়া এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ১ হাজার টাকা।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান একাডেমিক ভবন এলাকা এবং বকশিবাজারে ছাত্রদের আবাসিক ভবন এলাকা ঘিরে এসব ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা আবাসিক কোয়ার্টার ভবন, একটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ৮০০ আসনের শিক্ষার্থী হোস্টেল, বেজমেন্টসহ ১৫ তলা একাডেমিক ভবন, ৩০০ আসনের চারটি লেকচার থিয়েটার, ৩০০ আসনের দুটি পরীক্ষা কক্ষসহ চারতলা সার্ভিস ভবন, ৮০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতার চারতলা মসজিদ, অন্যান্য অনাবাসিক ভবন ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও কালভার্ট, সেন্ট্রি পোস্ট, ওয়াকওয়ে, ফুটপাত ও কম্পাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হবে।
তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ও আবাসিক ভবনের অভাব দূর হবে।
একনেক সভায় স্বাস্থ্য খাত ছাড়াও সড়ক, নৌপরিবহন, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে অনুমোদিত ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫৮৯ কোটি ৮ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: অনুমোদনের অপেক্ষায় ১২০০ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান, বদলে যাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিত্র
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রমুখ অংশ নেন।