০৬ মে ২০২৬, ১৫:৪৩

দেশে পৌঁঁছেছে হামের ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন

বিমানবন্দরে হামের টিকা সংগ্রহকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী  © সংগৃহীত

ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপি‌আই) জন্য দ্বিতীয় চালানে ১৫ লাখ ডোজ এম‌আর (হাম-রুবেলা) ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এসেছে ৯০ হাজার ভায়াল টিডি (টিটেনাস-ডিপথেরিয়া) টিকাও। এর আগে গত ৩ মে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি (পোলিও) টিকা দেশে আসে। এ নিয়ে মোট ৩০ লাখ ৫ হাজার ডোজ এম‌আর ও আইপিভি এবং ৯০ হাজার ভায়াল টিডির ভ্যাকসিন সংগ্রহ করল সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, আগামী ১০ মের মধ্যে আরও এক কোটি ৮০ লাখ ডোজ বিভিন্ন রোগের টিকা দেশে পৌঁছাবে।

আজ বুধবার (৬ মে) বেলা ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় চালানের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ সময় ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যাকসিন সংগ্রহকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, সরকার ইতোমধ্যে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে ১০ ধরনের ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত ৯ ও ১৭ মে অর্থপ্রাপ্তির পর ইউনিসেফ ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। বুধবার (৬ মে) অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং ৯০ হাজার ভায়াল টিডি ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।

তিনি জানান, আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওইভি এবং পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পন্ন হবে। ইউনিসেফ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

আরও পড়ুন: লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি আর নয়, সরকারি হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলবে অনলাইনেই

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে আমরা ওপেন টেন্ডার বাতিলের পর বাকি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে। বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও বাংলাদেশে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইপিআই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি সফল কর্মসূচি এবং গ্যাভি আমাদের ‘ভ্যাক্সিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একটি যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ পরিচালনা করেছে, প্রতি বছর ইপিআই প্রোগ্রাম প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করে এবং প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ করে।

আরও পড়ুন: হামের টিকা নিয়ে মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ এটি শিশুদের জীবন রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা আমি দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতিল করি এবং ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ করি। সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে ছাড় করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন ক্রয় একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বমানের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদনকারী থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফ নিয়মিত কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোপ্ল্যানিং, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং।

এ সময় চলমান টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এ ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫ জন শিশু টিকা পেয়েছে এবং আমরা ৯৩% কভারেজ অর্জন করেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা ১০০% কভারেজ অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।