শাবিপ্রবিতে গানের তালে তালে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  © টিডিসি ফটো

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ‘চাষাভুষার টং’ নামে দোকান স্থাপন করা হয়েছে। রাতে আয়োজন করা হয়েছে প্রতিবাদী কনসার্ট।

আরও পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগে বেশি সিজিপিএ পাওয়া প্রার্থীকে বাদ দেয়ার অভিযোগ

শনিবার সন্ধ্যা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে প্রতিবাদী গান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড দল নোঙর সংগীত পরিবেশন করে। গানে গানে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি করেন ব্যান্ড দলের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে গলা ছেড়ে গান গাইছেন। তাদের গানে ছিল প্রতিবাদের ঝড়। ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবো রে’ গানটি শেষ হতেই আরেকজন পাশ থেকে গলা ছেড়ে ধরছেন ‘মা গো ভাবনা কেন? আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে’। তার সঙ্গে অন্যরাও গলা মেলাচ্ছে। আবার সবাই কোমল সুরে গেয়ে উঠছে ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান’।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিলেন উপাচার্য। এর প্রতিবাদে তার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমরা প্রতিদিন প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো।

এর আগে বিকেলে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকালে স্থাপন করা হয় ‘চাষা ভুষার টং’। ক্যাম্পাসে পাঁচটি ‘চাষাভুষার টং’ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮টিতেই নেই ভিসি-ট্রেজারার

শাহরিয়ার আবেদিন নামে আন্দোলনকারীদের আরেক মুখপাত্র বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে ক্যাম্পাস অপরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় আমরা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা পরিষ্কার করেছি। ক্যাম্পাস আমাদের, তা পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও আমাদের।’

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র উমর ফারুক বলেন, ‘২০২০ সালের জানুয়ারির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের ভেতরে বেশ কিছু টং দোকান এবং করোনার ছুটির সময় বাকি টং দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। এই টংগুলোই ছিল সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় টং দোকান খোলার দাবি জানালেও প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। সেই টং দোকানগুলো পুনরায় খোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-বিল্ডিংয়ের সামনে চাষাভুষার টং নামে দুটি দোকান পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে।’

গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ২৬ জানুয়ারি টানা সাতদিনের অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।


সর্বশেষ সংবাদ