গোবিপ্রবি উপাচার্যকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবির) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে নিয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রশাসন। এটিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস পত্রিকায় ‘২০ লাখ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাতে চাওয়া সেই অধ্যাপককে এবার ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে যে, সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এটি বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাচার্যের সম্মানহানি করার জন্য কোনো কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র ভিন্ন কিছু নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রকাশিত সংবাদে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি করেছিল এবং তদন্ত প্রতিবেদনে কী সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল তা জানা যায়নি।
অথচ অভিযোগের বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউজিসি। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে অপ্রীতকর কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। সে হিসাবে নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মানুযায়ী চলমান থাকবে।’
অর্থাৎ ইউজিসির প্রতিবেদন প্রমাণ করে যে, প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকাশিত সংবাদটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’-কে অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্য খবর: ইবির পরিত্যক্ত ভবনগুলো ছাত্রী হলে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা প্রশাসনের
প্রতিবেদকের বক্তব্য: গোবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্যকে ঢালাওভাবে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করেছে। তবে তাদের পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে প্রতিবেদনের মূল তথ্যগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশেষ করে, প্রতিবেদনে উল্লেখিত উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং সেখানে একজন প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সত্যতা বা প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করার পরিবর্তে তারা ইউজিসির একটি তদন্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে পুরো সংবাদটিকেই বিভ্রান্তিকর হিসেবে দাবি করেছে।
এসব ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের বক্তব্য হলো, সংবাদে উত্থাপিত তথ্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে ঢালাওভাবে পুরো প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করা অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।