সেলফি তুলতে গিয়ে পুকুরে পড়ল ভাই, বাঁচাতে গিয়ে একসঙ্গে প্রাণ গেল তিন বোনেরও
সেলফি তুলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যাওয়া ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৩ বোনের। জীবন বাঁচানো যায়নি ভাইকেও। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থানের ঢোলপুর জেলায়। কয়েক মুহূর্তেই শেষ এক পরিবারের সবকটি সন্তান। আচমকা ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
ঘটনাটি ঘটেছে ঢোলপুরের আংরি থানার ধুন্ধ বিরজা গ্রামে। হতভাগ্য পরিবারটি গিয়েছিল হিরামন বাবা মন্দিরে। রাখি বন্ধনে বিশেষ এক অনুষ্ঠান হচ্ছিল মন্দিরে। স্থানীদের বক্তব্য, পরিবারের সবাই গিয়েছিলেন মন্দিরে পুজো দিতে। তার মধ্যেই তাদের ছেলে মন্দিরের পাশের পুকুরে নেমে পড়ে।
এর মধ্যেই ওই যুবকের বোনদের নজরে পড়ে তাদের সঙ্গে ভাই নেই। সঙ্গে সঙ্গেই তারা পুকুরের দিকে দৌড় দেন। পুকুরের কাছে গিয়ে তাদের নজরে পড়ে, তাদের ভাই পানিতে ডুবে যাচ্ছে। ভাইকে পুকুরে ডুবে যেতে দেখেই তিন বোন কোনওকিছু না ভেবেই পুকুরে ঝাঁপ দেয়। তবে সেটি ছিল বেশ গভীর। সেখানে ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে তিন বোনই তলিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
বহু চেষ্টার পর পুলিশ এসে ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। কীভাবে ঘটে গেল এমন মর্মান্তিক ঘটনা, কী বলছে পুলিস? স্থানীয় থানার বক্তব্য, পুকুরের কিনারায় দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছিলেন ২৩ বছরের ভোলু। ছবি তুলতে গিয়েই পুকুরে পড়ে যান। তাকে ডুবতে দেখে বাঁচানোর জন্য তার দুই বোন মনোরমা ও বোতো এবং তাদের তুতো বোন নিশা সঙ্গে সঙ্গেই পানিতে ঝাঁপ দেন।
আরও পড়ুন: ছিনতাইয়ের শিকার রাবি শিক্ষিকা, ব্যাগ-আইফোন খুইয়ে হাজির থানায়
পুকুরে অতিরিক্ত পানি ও গভীরতা বেশি থাকায় তিন তরুণীও ডুবে যান। চোখের সামনে চার জনকে জলে তলিয়ে যেতে দেখেন তাদের বাবা-মা। ডুবুরি এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের সহায়তায় পুলিশ পানি থেকে চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর সেগুলো সরমথুরার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলো—মৌহরি তাজপুরের ৩০ বছর বয়সী মনোরমা, রামরতন কা পুরার ৩৬ বছর বয়সী বোতো, নথুয়া পুরার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী নিশা এবং নথুয়া পুরার ২৩ বছর বয়সী ভোলু ওরফে রবি। খবর: জিনিউজ বাংলা।