১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫২

৭ লাখ ৫৬ হাজার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল মেটা

মেটা  © টিডিসি সম্পাদিত

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ৭ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের মুখে প্রতিষ্ঠানটি আরও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মেটা জানায়, গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগ থেকে জুন পর্যন্ত ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয়দের বলে সন্দেহ করা ৪ লাখ ৬২ হাজার ইনস্টাগ্রাম ও ২ লাখ ৯৪ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ লাখ ৩১ হাজার ইনস্টাগ্রাম ও ১ লাখ ৭৩ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলার তথ্য জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা গত ১০ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশটির সরকার এই আইন প্রণয়ন করে।

মেটা ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো শুরু থেকেই আইনটির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর তা মেনে চলার পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে তাদের। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটাসহ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আইন বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

মেটা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইন প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে এবং এই সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, ‘তরুণদের জন্য অনলাইনে নিরাপদ ও বয়সোপযোগী অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার বিষয়ে অস্ট্রেলীয় সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে আমরাও একমত এবং আমরা আইন অনুযায়ী আমাদের দায়বদ্ধতা পালন করছি।’

তবে মেটার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অস্ট্রেলীয় সরকারের পরিসংখ্যান ও একাধিক স্বাধীন জরিপের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। এসব তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর প্রথম তিন মাসেও ১৬ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজনের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিল।

অস্ট্রেলিয়া এখন নিয়ম না মানা প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটি নিয়ম লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা দ্বিগুণ করে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার বা প্রায় ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করেছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নথি সংগ্রহ ও তথ্য উদঘাটনের আরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সংসদীয় শুনানি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন নিয়ে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে মেটা, টিকটক, ইউটিউবের মালিক গুগল ও স্ন্যাপচ্যাটের মালিক স্ন্যাপের প্রতিনিধিদের। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি কর্মকর্তারাও শুনানিতে অংশ নেবেন।

এদিকে ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বয়স নিশ্চিতকরণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে একটি পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, বাজারে থাকা প্রযুক্তিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।

আরও দেখুন: ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী

মেটাসহ বেশিরভাগ বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বয়স অনুমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এসব প্রযুক্তি সাধারণত ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বয়স সম্পর্কে অনুমান করে।

মেটা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন অপ্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছে। ব্যবহারকারীর প্রোফাইল বিশ্লেষণের মাধ্যমে জন্মদিনের উদযাপন কিংবা স্কুলের ফলাফলের উল্লেখের মতো বিভিন্ন তথ্য থেকে অ্যাকাউন্টটি ১৬ বছরের কম বয়সী কারও হতে পারে কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পর একই ব্যক্তি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করলে সেই সুযোগও বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেটা।

অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে অন্যান্য দেশও। শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা আরোপের বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিবেচনা করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।