১৫ জুলাই ২০২৬, ১৩:৩৯

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তিন নভোচারী গেলেন মহাকাশ স্টেশনে

সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযান  © সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন একজন মার্কিন নভোচারীসহ তিনজনের একটি দল। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানে চড়ে তারা মহাকাশ স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করেন।

এই উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে নাসা এবং রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের প্রধানদের বিরল যৌথ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযাত্রী দল ও মিশন
সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানে রয়েছেন নাসার নভোচারী অনিল মেনন এবং রাশিয়ার দুই নভোচারী পিয়োতর দুব্রভ ও আনা কিকিনা। তারা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ৭৫তম রোটেশন ক্রু হিসেবে প্রায় আট মাস মহাকাশে অবস্থান করবেন। এটি অনিল মেননের প্রথম মহাকাশযাত্রা। অন্যদিকে, পিয়োতর দুব্রভ এবং আনা কিকিনা তাদের দ্বিতীয়বারের মতো মহাকাশে পাড়ি জমালেন। উল্লেখ্য, আনা কিকিনা বর্তমানে রাশিয়ার ২৩ জন সক্রিয় নভোচারীর মধ্যে একমাত্র নারী।

নাসা প্রধানের বিরল সফর
উৎক্ষেপণটি সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য বাইকোনুরে উপস্থিত ছিলেন নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তিনি রসকসমসের পরিচালক দিমিত্রি বাকানভের সঙ্গে বৈঠক করেন। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো নাসা প্রধান রাশিয়ার কোনো উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও মহাকাশ গবেষণার স্বার্থে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন : লবঙ্গেই মিলতে পারে কাশির স্বস্তি, জেনে নিন সঠিক ব্যবহার

আইএসএস নিয়ে উদ্বেগ
বর্তমানে মহাকাশ স্টেশনের নিরাপত্তা নিয়ে নাসা ও রসকসমসের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে আইএসএস-এর পুরোনো মডিউলগুলোতে বায়ু লিকের ঘটনা নিয়ে উভয় সংস্থার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এসব লিকের উৎস শনাক্ত এবং তা মেরামতের পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষ প্রায়ই ভিন্নমত পোষণ করছে। এছাড়া ২০৩০ সালের পর মহাকাশ স্টেশনটির অবসরে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

উল্লেখ্য যে, ভূ-রাজনীতির নানা জটিলতা থাকা সত্ত্বেও মহাকাশ স্টেশনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে নাসা ও রসকসমসের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এখনো অটুট রয়েছে। যেখানে মার্কিন সোলার প্যানেল স্টেশনটির শক্তি জোগায়, সেখানে রুশ থ্রাস্টারগুলো স্টেশনটিকে কক্ষপথে সুনির্দিষ্ট অবস্থানে রাখতে সহায়তা করে।

সম্প্রতি বাইকোনুরের ৩১ নম্বর সাইটটি মেরামতের পর এটিই প্রথম মনুষ্যবাহী সফল উৎক্ষেপণ, যা রাশিয়ার মহাকাশ অভিযানের সক্ষমতাকেও নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।