১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২৭

বাঁচতে বার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা  © সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন। তাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুনের কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উত্তর ব্যাংককের চাতুচাক জেলার না লাদপ্রাও বারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট বলেন, আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা গুরুতর।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বেশ কয়েকজনের মরদেহ ফায়ার এক্সিটের কাছে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জরুরি নির্গমনপথে কোনো বাধা থাকায় তারা বের হতে পারেননি। ঘটনার সময় বারের ভেতরে ঠিক কতজন ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বারে গান পরিবেশন করা এক সংগীতশিল্পী তাকে জানিয়েছেন, মঞ্চের পাশে একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তেই পুরো বার ধোঁয়ায় ভরে যায়।

তিনি আরও বলেন, বারের পেছনের দিকের শৌচাগারের কাছে অনেক মরদেহ পাওয়া গেছে। বেঁচে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বেসরকারি হাসপাতালে ইউল্যাব শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ স্বজনদের

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন দ্রুত বারের প্রবেশপথ গ্রাস করে। ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে লোকজনকে ছুটে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর প্রকাশিত ছবিতে বারের ভেতরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। পুরো অভ্যন্তর কালো ছাইয়ে ঢেকে গেছে।

সংগীতশিল্পী সুকানিয়া ওংওংওয়াই জানান, কাছেই আরেকটি স্থানে তিনি অনুষ্ঠান করছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। কারণ, তার ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্য ওই বারে পরিবেশনা করছিলেন।

তিনি বলেন, তার এক সহকর্মী নিহত হয়েছেন। আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একজন এখনো নিখোঁজ।

সুকানিয়ার বলেন, ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, আগুন লাগার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না।