০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪

খামেনির শেষ বিদায়ে পাশে ছিল ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন

খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন  © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ে আবেগঘন এক দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো শিশুটির কফিনটি খামেনির বাঁধাই করা ছবির পাশে রাখা হয়, যা উপস্থিত হাজারো শোকাহত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির জানাজা শুরু হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৮৬ বছর বয়সী এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে সমবেত হন।

জানাজায় ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের ওপর তার পরিচিত কালো পাগড়ি রাখা হয়। একই স্থানে তার নিহত কয়েকজন স্বজনের মরদেহও রাখা হয়, যার মধ্যে ছিল ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন।

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) খামেনির মরদেহ তেহরানে পৌঁছায়। ইরান ও ইরাকজুড়ে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তার মরদেহ বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু তেহরানেই আগামী কয়েক দিনে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।

শনিবার ভোরে অনুষ্ঠানস্থলের ফটক খুলে দেওয়ার পরপরই হাজারো মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রবেশ করেন। বিশাল প্রাঙ্গণ অল্প সময়ের মধ্যেই শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় অনেককে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল ব্যানার বহন করতে এবং ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ ও ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন : খামেনির শোকানুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে লাখ লাখ মানুষের ঢল, আনুষ্ঠানিকতায় যা যা থাকছে

শুক্রবার সন্ধ্যায় শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারাও খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান আহমদ ভাহিদিসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন। 

সূচি অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত খামেনির মরদেহ তেহরানে রাখা হবে। এরপর রাজধানীতে একটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। সেখান থেকে ইরাকের পবিত্র শহরগুলো ঘুরে সবশেষে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।