বাবার জানাজা ও দাফনে কি উপস্থিত থাকবেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি?
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রয়াত বাবা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নাও নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি। তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক মন্তব্যে মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, ‘আমি মনে করি না তিনি অংশ নেবেন, কারণ বর্তমানে ইসরায়েলিদের ইরান ও নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আগ্রাসন নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলিদের সম্পর্কে জানি, তারা আন্তর্জাতিক আইন মানে না এবং প্রকাশ্যে ইরানের ভেতরে কোনো ধরনের অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে থাকে।’
ইসলামি দাবি করেন, ইসরায়েল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থায়ী সমঝোতা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে এবং সেই লক্ষ্যেই ইরানের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতার জন্য জনসমক্ষে এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিরাপদ সময় নয় বলে আমি মনে করি।’
আরও পড়ুন: খামেনির শোকানুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে লাখ লাখ মানুষের ঢল, আনুষ্ঠানিকতায় যা যা থাকছে
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাড়ে তিন দশক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিন নিহত হন। তাকে স্মরণে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত তার মরদেহ তেহরানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর সোমবার শোক মিছিল রাজধানী তেহরান অতিক্রম করবে। মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ধর্মীয় নগরী কুমে। পরে বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।