০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬

লেবাননে ৩৪০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত, নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে যেতে পারবে না ১ লাখ শিশু

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননের স্কুল  © সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে লেবাননের অন্তত এক লাখ শিশু শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারবে না বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্বাসনে জরুরি বিনিয়োগ না হলে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

লেবাননের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় দেশব্যাপী একটি মূল্যায়ন পরিচালনা করে। জুন মাসে সম্পন্ন হওয়া ওই মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইসরায়েলের হামলার কারণে দেশের সরকারি, বেসরকারি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক (টিভিইটি) মিলিয়ে মোট ৩৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইউনিসেফ জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে নাবাতিয়েহ, দক্ষিণ লেবানন, বেকা, বালবেক-হারমেল, বৈরুত এবং মাউন্ট লেবানন। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কার বা সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ ছাড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মারকোলুইজি করসি বলেন, বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি এমন একটি স্থান, যেখানে শিশুরা শেখে, নিরাপদ বোধ করে এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে লেবাননের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতির প্রথম পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ ঘনিয়ে আসায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্বাসনে জরুরি বিনিয়োগ প্রয়োজন, যাতে কোনো বিলম্ব ছাড়াই শিশুরা আবারও পড়াশোনায় ফিরতে পারে।

আরও পড়ুন: ইমাম রেজার মাজারের লাল পতাকা খামেনির কফিনে, শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে ইরান

তিনি আরও বলেন, লেবাননের শিশুরা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের কারণে বারবার শিক্ষাব্যবস্থার বিঘ্নের মুখে পড়ছে। আবারও দীর্ঘ সময় শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে তাদের শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সার্বিক সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের মতো ঝুঁকিতেও পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।

করসির ভাষ্য, একটি শিশু যতদিন বিদ্যালয়ের বাইরে থাকে, তার শেখার ঘাটতি ও ঝরে পড়ার ঝুঁকি তত বাড়ে। শিক্ষা পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারে না; বরং এটি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ারই অপরিহার্য অংশ। বিদ্যালয় পুনর্বাসন শুধু দেয়াল বা শ্রেণিকক্ষ মেরামত নয়, বরং এটি শিশুদের জন্য আশা ফিরিয়ে আনে, সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দাতা সংস্থা এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্বাসন, শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। ট্রানজিশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স এডুকেশন ফান্ড (টিআরইএফ)-এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে সহায়তা দিয়ে এলেও বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় আরও বড় পরিসরে অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। তাই আজ শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ করা মানে লেবাননের শিশু, তাদের সম্প্রদায় এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা।