শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে ইইউ বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সুইডিশ মন্ত্রী
লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু নীতিবিষয়ক দীর্ঘ বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে তিন মাস বয়সী শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি। ইইউর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সদস্য দেশের মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি শিশু উপস্থিত থাকার ঘটনা ঘটল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৫ জুন) লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রোমিনা পোরমোখতারি তার তিন মাস বয়সী ছেলে অ্যাডামকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন। মাতৃত্ব ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে নারীদের যেন কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য না হতে হয় এই বার্তা তুলে ধরতেই তিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩০ বছর বয়সী এই সুইডিশ মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখাতে চেয়েছি যে নারীদের কাজ আর পরিবার এই দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে না। অবশ্য এর জন্য এমন একজন জীবনসঙ্গীও প্রয়োজন, যিনি আধুনিক চিন্তাধারার এবং সহযোগিতাপ্রবণ।’
ইইউ কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির জানা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রীদের কোনো বৈঠকে এই প্রথমবারের মতো একটি শিশু অংশ নিল।
২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় রোমিনা পোরমোখতারি ছিলেন সুইডেনের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সরকারি মন্ত্রী। সম্প্রতি তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে ফিরেছেন। অন্যদিকে তার স্বামী বর্তমানে সন্তান লালন-পালনের জন্য ছুটিতে রয়েছেন, যা আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত চলবে। অ্যাডামের দেখাশোনার জন্য তিনিও রোমিনার সঙ্গে লাক্সেমবার্গ সফরে গিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীর ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা-ভাঙচুর, ১৫ লাখ টাকা লুট
বিশ্বের সবচেয়ে উদার পিতৃত্ব ও মাতৃত্বকালীন ছুটি ব্যবস্থাগুলোর একটি রয়েছে সুইডেনে। দেশটির উচ্চ করভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় বাবা-মা মিলিয়ে প্রায় ১৬ মাসের বেতনসহ ছুটি পান।
এই ছুটির মধ্যে ৯০ দিন করে প্রত্যেক অভিভাবকের জন্য আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকে, যা অন্যজনের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। কোনো অভিভাবক তার নির্ধারিত অংশ ব্যবহার না করলে সেই দিনগুলো বাতিল হয়ে যায়। বাবাদের সন্তান লালন-পালনে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে এই ‘ড্যাড মান্থস’ বা বাবাদের জন্য নির্ধারিত ছুটির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
রোমিনা পোরমোখতারি বলেন, এই নীতি এবং তার সহকর্মীদের সহযোগিতার কারণে তার স্বামীর সন্তানকে দেখাশোনা করা এবং তার নিজের কাজে ফিরে আসা অনেক কম বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
তিনি মনে করেন, পরিবারবান্ধব নীতিমালা শুধু দীর্ঘ ছুটির জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয় নয়। বরং অভিভাবকদের মধ্যে ছুটি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা এবং সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার দিকেও সরকারগুলোর নজর দেওয়া উচিত।
রোমিনা বলেন, ‘এ ধরনের নীতিমালা এমন মূল্য সৃষ্টি করে। এটি কখনোই খাটো করে দেখা উচিত নয়। এই মূল্য সবসময় অর্থনৈতিক নাও হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অর্থনৈতিক সুফলও বয়ে আনতে পারে। কারণ এতে কর্মজীবী মানুষ অতিরিক্ত চাপ বা অবসাদে ভোগেন না।’
কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক অভিভাবক যে চাপের মুখে পড়েন, সে প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।
পোল্যান্ডের উপ-জলবায়ুমন্ত্রী ক্রিজিস্তফ বোলেস্তাও বৈঠকে শিশুর উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি দারুণ একটি বিষয়। এটি কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং জীবনেরই একটি অংশ।’