সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমেছে
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত এবং ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিতে ছাড় পাওয়ার দাবির পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে আসায় বাজারে এই প্রভাব দেখা গেছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৮ ডলার বা ২.০৯ শতাংশ কমে ৭৮.৮৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে লেনদেনের শুরুতে দাম বেড়ে ৮২.৩০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের হুমকির কারণে শুরুতে দাম বাড়লেও আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির খবর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য ৬০ দিনের রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, আলোচনা `উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি' অর্জন করেছে এবং পরবর্তী কারিগরি বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছে, আলোচনার মাধ্যমে তেহরান তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা-ছাড়, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি এবং অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবুও বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে ইরানের তেল সরবরাহ আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন : যুবদল নেতার বাড়িতে গুলি চালালেন আপন ছোট ভাই
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল বিশ্ববাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন এই প্রণালির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি এখনো হয়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ আলোচনা কী দিকে এগোয়, তার ওপরই তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জজিরা, ইরান ইন্টারন্যাশনাল।