বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক বহালের ইঙ্গিত, মার্কিন প্রস্তাবে বাড়ছে উদ্বেগ
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (USTR) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নথিতে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এর ফলে গত এপ্রিলে ঘোষিত বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত শুল্কহার আপাতত অপরিবর্তিত থাকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএসটিআরের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির তদন্তে বাংলাদেশকে এমন দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে অনেক বাণিজ্য অংশীদার দেশ এখনো পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএসটিআরের তদন্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশসহ আরও ১৪টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকি ৪৫টি দেশ ও শুল্ক-অঞ্চলের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন : আয়কর বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থ সংগ্রহ, সতর্ক করল এনবিআর
ইউএসটিআর জানিয়েছে, এ প্রস্তাবের ওপর আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই এ বিষয়ে একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের বড় অংশের রপ্তানি যায় মার্কিন বাজারে। ফলে প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে আলোচনার সুযোগ থাকায় এখনই চূড়ান্ত প্রভাব নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যনীতি, শ্রমমান ও আমদানি ব্যবস্থার বিষয়ে ধারাবাহিক পর্যালোচনা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ প্রস্তাব সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।