০২ মে ২০২৬, ০৮:৩৯

জামিল-বৃষ্টি হত্যায় ইউএসএফে শোকসভায় শত শত শিক্ষার্থী, শোকবার্তায় যা বললেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট

শেষ বিদায় জানাচ্ছেন সহপাঠীরা  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি পিনেলাস কাউন্টিতে উদ্ধার হওয়া দেহাংশ নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করার পর এক শোকবার্তায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট শোক বার্তায় বলেন, ‘নাহিদার মৃত্যুর খবর আমাদের জন্য এক অপূরণীয় শোক নিয়ে এসেছে। নাহিদা ও জামিল লিমল ছিলেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণীয় শিক্ষার্থী। তারা তাদের মেধা ও প্রাণচাঞ্চল্য দিয়ে ক্যাম্পাসে এক সুন্দর কমিউনিটি গড়ে তুলেছিলেন।’ তিনি আরও জানান, এই দুই শিক্ষার্থীর অবদান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবসময় মনে রাখবে। তাদের সম্মানার্থে ক্যাম্পাসের স্মৃতিস্তম্ভে নাম খোদাই করা হবে এবং প্রতিবছর অনুষ্ঠিত বিশেষ স্মরণ সভায় তাদের স্মরণ করা হবে।

নাহিদা ও জামিলের স্মরণে আজ বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিসেন্ট হিল এলাকায় এক বিশাল শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শোকাতুর শিক্ষার্থীরা মোমবাতি হাতে নিরবতা পালন করে এই দুই কৃতি শিক্ষার্থীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি ব্যক্তিগত তহবিল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জামিল ও নাহিদার মরদেহ দেশে পাঠানো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিসকে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানেই মিলল খণ্ডিত দেহাবশেষ

এই ট্র্যাজেডিকে ভিন্নভাবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট বার্তায় উল্লেখ করেন, ‘দুটি তরুণ প্রাণের এমন অকাল প্রয়াণ আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করছে। আমরা অফ-ক্যাম্পাস আবাসনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।’ শোকাহত শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা কাউন্সিলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৯ মিনিটে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় পাইন গ্লেন সার্কেলের ১৪০০০ ব্লকে একটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় কল পেয়ে সাড়া দিতে গিয়ে তাকে চিহ্নিত করে পুলিশ। 

ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতরে আটকে ফেলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অমান্য করেন। দীর্ঘ সময় আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোয় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, ক্রাইসিস নেগোশিয়েশন টিম এবং ড্রোন রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হয়। অবশেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারের পর চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারকৃত হিশামের বিরুদ্ধে ছয়টি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা, কারও মৃত্যু সংবাদ পুলিশকে না জানানো এবং বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানো বা নাড়াচাড়া করা। 

প্রসঙ্গত, জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডির শিক্ষার্থী। জামিল ইউএসএফের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী। নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। এর আগে তিনি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন। গত ১৬ এপ্রিল লিমনের টাম্পার বাসা থেকে তাকে সর্বশেষ দেখা যাওয়ার পর থেকেই দুইজন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন।