২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০৩

ট্রাম্পের বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিবাদ, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কি রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ?

‘নো কিংস’ বিক্ষোভ  © সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিবাদে আজ ২৮ মার্চ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আয়োজকরা। দেশব্যাপী ৩ হাজার ১০০টিরও বেশি স্থানে পরিকল্পিত এই কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আজ কয়েক মিলিয়ন মার্কিনি রাজপথে নেমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করবেন। এই আন্দোলনের নাম ‘নো কিংস’ রাখার নেপথ্যে রয়েছে আয়োজকদের গভীর বিশ্বাস, ট্রাম্প একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে নয়, বরং রাজতান্ত্রিক শাসকের মতো আচরণ করছেন। 

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে ১৮০০টি কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল এবং একই বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় দফায় ২৫০০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ লাখ। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এবার কর্মসূচির সংখ্যা ৩ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ইনডিভিজিবল ও পাবলিক সিটিজেনসহ প্রগতিশীল কর্মী, শ্রমিক সংগঠন, নাগরিক অধিকার গ্রুপ এবং ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি বিশাল জোট এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ জানান, মানুষ বিভিন্ন কারণে এই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন কেউ কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ, কেউ নাগরিক অধিকারবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন, আবার কেউ যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে শামিল হচ্ছেন। তাদের মূল লক্ষ্য নির্দিষ্ট কোনো দাবি আদায়ের চেয়েও বেশি মানুষকে একত্র করা এবং তাদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নাগরিক সংযোগ তৈরি করা। 

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা

অন্যদিকে পাবলিক সিটিজেনের সহসভাপতি রবার্ট ওয়েইসম্যানের মতে, গত বছরের প্রথম গণবিক্ষোভের পর থেকেই মার্কিনিরা সম্মিলিত আন্দোলনের শক্তি বুঝতে পেরেছে এবং তারা এখন ভয় না পেয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে। আয়োজক সংগঠনগুলোর মধ্যে মুভঅন, হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন, উইমেন’স মার্চ এবং ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পাওয়ারের মতো বড় বড় নাম যুক্ত থাকায় এবারের আন্দোলনটি ব্যাপক ভিত্তি পেয়েছে।

এবারের আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে মিনেসোটার টুইন সিটিস বা সেন্ট পল এলাকা। সেখানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেন্ট পলের স্টেট ক্যাপিটলে আয়োজিত প্রধান সমাবেশে স্থানীয় রাজনীতিকদের পাশাপাশি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন, ম্যাগি রজার্স, জোয়ান বায়েজ, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং অভিনেত্রী জেন ফন্ডার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, শুধু এই একটি এলাকাতেই ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে। এছাড়া পোর্টল্যান্ডে ৬০ হাজার এবং কানসাস সিটিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। এমনকি মন্টানার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যের ছোট ছোট শহরগুলোতেও প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। আয়োজকরা বড় বড় সমাবেশের চেয়ে ছোট ও ছড়িয়ে থাকা কর্মসূচির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন যাতে দেশের প্রান্তিক মানুষের অসন্তোষের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে।

বিশাল এই বিক্ষোভ আয়োজনের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এক বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই বিক্ষোভ নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো আগ্রহ নেই এবং এটি শুধু সংবাদকর্মীদের জন্যই কৌতূহলের বিষয়। তবে বিক্ষোভকারীরা এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বলছেন, অভিবাসন নীতি কঠোর করা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাতের প্রতিবাদে তারা এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। 

লিয়া গ্রিনবার্গের মতে, তাদের লক্ষ্য শুধু একদিনের বিশ্ব রেকর্ড গড়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষকে নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়া। দেশজুড়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আজকের এই ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ সেই জনরোষের এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।