১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০

ইরানে স্কুলে প্রাণঘাতী হামলায় নিহত ১৭৫, ট্রাম্পের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভিডিও প্রকাশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলা  © সংগৃহীত

ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় ১৭৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে নতুন প্রকাশিত একটি ভিডিও এবং বিভিন্ন ফরেনসিক প্রমাণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ঘটা এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৬৮ জনই শিশু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সম্ভবত একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের একটি নৌঘাঁটির কাছে আঘাত হানছে। ওই নৌঘাঁটির ঠিক পাশেই অবস্থিত ছিল ‘শাজারাহ তায়্যেবেহ’ নামক প্রাথমিক বিদ্যালয়টি, যেখানে হামলার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ভিডিওটি পাশের একটি নির্মাণাধীন এলাকা থেকে ধারণ করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, একটি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত নৌঘাঁটির ভেতরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত হানছে। 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভিডিওতে দেখা অস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের বিজিএম বা ইউজিএম–১০৯ টমাহক স্থল আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্র (টিএলএএম) এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একমাত্র মার্কিন সামরিক বাহিনীই এই ধরনের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ভাই বাড়িতে আগুন লেগে নিহতের দাবি করা ভিডিওটি ভুয়া

ভিডিওতে ক্যামেরা ডান দিকে ঘোরানোর পর দেখা যায়, শাজারাহ তায়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিক থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিদ্যালয়ে অন্তত ১৬৮ জন শিশু এবং ১৪ জন শিক্ষক নিহত হন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৭৫ জন, যাদের অধিকাংশই নিষ্পাপ শিশু। 

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট ইমেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং অন্যান্য যাচাইকৃত ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ একত্র করে দেখা গেছে, স্কুল ভবনটি একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা নিখুঁত হামলায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই একই সময়েই পাশের নৌঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছিল।

তবে এই হামলার দায় সরাসরি অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার এক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওই স্কুলে হামলা চালায়নি। আমার মতে এবং আমি যা দেখেছি তার ভিত্তিতে এটি ইরান নিজেই করেছে।’ 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের ব্যবহৃত গোলাবারুদ খুবই নিম্নমানের এবং অনির্ভুল। কিন্তু নতুন প্রকাশিত ভিডিও, বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং সিএনএন-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। 

গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির পারিপার্শ্বিকতা এবং সংগৃহীত প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওই স্কুলের কাছে হামলার জন্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীই দায়ী ছিল।