১০ জুন ২০২৬, ১১:৫৫

গরমে ছাদই ঘরকে বানায় ‘ওভেন’, আরাম পেতে জেনে নিন ঠান্ডা রাখার ৬ উপায়

গরমে ছাদ ঠান্ডা রাখার ৬ কার্যকর উপায়  © এআই সৃষ্ট ছবি

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে অনেকেরই অভিযোগ, পাখা চললেও ঘরের ভেতর স্বস্তি মেলে না। বিশেষ করে দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ছাদ ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে উপরের তলার বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বেশি হয়। এমনকি এসি চালানোর পরও ঘর দ্রুত ঠান্ডা হতে চায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলা ছাদে জমে থাকা তাপ ধীরে ধীরে দেয়াল ও ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই গরমের সময় ঘরকে আরামদায়ক রাখতে হলে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে ছাদ ঠান্ডা রাখার দিকে। সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেই এ সমস্যা অনেকটা কমানো সম্ভব।

তাপ প্রতিরোধী রং ব্যবহার: বর্তমানে বাজারে ছাদের জন্য বিশেষ ধরনের হিট-রিফ্লেকটিভ বা তাপ প্রতিরোধী রং পাওয়া যায়। সাধারণত সাদা বা হালকা রঙের এসব আবরণ সূর্যের তাপ কম শোষণ করে এবং বেশির ভাগ তাপ প্রতিফলিত করে দেয়। ফলে ছাদের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের (DOE) তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ছাদের তাপমাত্রা গ্রীষ্মের দিনে ১৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে, যেখানে প্রতিফলক ছাদ ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত শীতল থাকতে পারে। সংস্থাটি আরও বলছে, সাদা রঙের ছাদ সূর্যের ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ আলো প্রতিফলিত করতে সক্ষম।

ছাদে বিশেষ ইনসুলেশন বা আচ্ছাদন বসানো: ছাদ ঠান্ডা রাখার কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো ইনসুলেশন শিট বা তাপরোধী আচ্ছাদন ব্যবহার। এটি ছাদের ওপর বা ছাউনির নিচে স্থাপন করা যায়। ফলে বাইরের তাপ সহজে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

ছাদ বাগান গড়ে তোলা: টব বা সরাসরি ছাদের ওপর গাছ লাগালে সূর্যের তাপের একটি বড় অংশ শোষণ করে নেয় গাছপালা। পাশাপাশি গাছে পানি দেওয়ার কারণে ছাদের তাপমাত্রাও কিছুটা কমে আসে। এতে ঘরের ভেতর তুলনামূলক শীতল পরিবেশ তৈরি হয়। গাছপালা, সবুজ ছাদ ও অন্যান্য সবুজ অবকাঠামো ভবনের ওপর সরাসরি সূর্যের তাপ কমিয়ে এবং পরিবেশে আর্দ্রতা ছড়িয়ে নগর এলাকার তাপমাত্রা হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (EPA) তথ্য অনুযায়ী , গ্রিন রুফ বা ছাদ বাগান ছাদে ছায়া সৃষ্টি করে, বাতাস থেকে তাপ অপসারণ করে এবং ছাদ ও আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সবুজ ছাদের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা প্রচলিত ছাদের তুলনায় ৫৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত কম হতে পারে। 

ছাদে পানি ছিটানো: প্রচণ্ড গরমের দিনে বিকেল বা সন্ধ্যায় ছাদে পানি ছিটালে জমে থাকা তাপ দ্রুত কমে যায়। বিশেষ করে কংক্রিটের ছাদে এই পদ্ধতি সাময়িকভাবে ভালো ফল দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে নয়, বরং তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য এটি কার্যকর।

আরও পড়ুন : গরম খাবার ফুঁ দিয়ে খেলে কী ক্ষতি হয়?

জানালায় পর্দা ও তাপরোধী ফিল্ম ব্যবহার: অনেক সময় ছাদের পাশাপাশি জানালা দিয়েও প্রচুর তাপ ঘরে ঢুকে পড়ে। ঘন কাপড়ের পর্দা, বাঁশের চিক বা তাপরোধী উইন্ডো ফিল্ম ব্যবহার করলে সূর্যের তাপ ও আলো কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এতে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে।

ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা উন্নত করা: ঘর ঠান্ডা রাখতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতমুখী জানালা, ভেন্টিলেটর বা এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করলে গরম বাতাস দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে। এতে ঘরের ভেতরে তাপ জমে থাকার প্রবণতা কমে। পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বের করে দিতে সাহায্য করে এবং আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের মতে, ‘কুল রুফ’ প্রযুক্তি ভবনের ভেতরে তাপ প্রবাহ কমিয়ে শক্তি সাশ্রয় ও বসবাসের স্বস্তি বাড়াতে সাহায্য করে। 

গরমের দিনে ঘরের আরাম অনেকটাই নির্ভর করে ছাদের তাপমাত্রার ওপর। তাই ছাদে তাপ প্রতিরোধী রং, ইনসুলেশন বা বাগান তৈরির মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পানি ছিটানো, পর্দা ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন। এসব ছোট ছোট উদ্যোগই প্রচণ্ড গরমে ঘরকে তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক রাখতে সাহায্য করবে।