তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, কমবে কবে— জানালেন আবহাওয়াবিদ
রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা এখনো অতীতের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ না করলেও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির ঘরে থাকলেও বাস্তবে মানুষের শরীরে অনুভূত হচ্ছে ৪২ ডিগ্রিরও বেশি তাপ। বাইরে বের হলেই যেন আগুনের উত্তাপ গায়ে এসে লাগছে। ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর, কিন্তু মিলছে না স্বস্তি। ছায়া, বাতাস কিংবা সামান্য ঠান্ডা অনুভূতিও যেন এখন দুর্লভ হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসীর জন্য।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টায় ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ৭টায় গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি। তবে ‘রিয়েল ফিল’ বা অনুভূত তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি ছিল। অর্থাৎ বাতাসে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে মানুষ যে তাপ অনুভব করছে, তা রেকর্ডকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: দুপুরের মধ্যে যে ১১ জেলায় ৮০ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস
আজ শুক্রবার (২২ মে) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আপাতত তাপপ্রবাহ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। চলমান গরম অন্তত ২৫ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা সাময়িকভাবে গরম কিছুটা কমাচ্ছে। তবে যেখানে বৃষ্টি হচ্ছে না, সেখানে গরমের তীব্রতা বজায় থাকছে। এছাড়া বৃষ্টি অল্প সময় স্থায়ী হওয়ায় আকাশ পরিষ্কার হওয়ার পর আবারও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ জানান, তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের কাছে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় ভ্যাপসা আবহাওয়া আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ঈদের সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে ২৮ তারিখের বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।