রাবি শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের নিন্দা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জে এ এম সকিলউর রহমান ও সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ডিসকলেজিয়েট এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফর্ম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বিভাগের সভাপতির কাছে তদবির করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান ও অ্যাকাডেমিক সিদ্ধান্তের কারণে ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হলে এ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এ সময় ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান ও তার সহযোগীরা ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিভাগীয় সভাপতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
আরও দেখুন: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি প্রোগ্রাম পদে নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক
এ ধরনের আচরণকে ব্যক্তিগত অপমানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে শিক্ষক পরিষদ। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষককে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে ভুক্তভোগী শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে সমাধান হিসেবে উপস্থাপনের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শিক্ষক সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষমা প্রার্থনা যথাযথ তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও আইনানুগ ব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে সংগঠনটি।
আরও দেখুন: জলাবদ্ধতায় বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা, দুই বছরে কমেছে ১৩০ জন
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ বিবৃতিতে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠান। শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা পক্ষপাতিত্ব কাম্য নয়।
বিবৃতিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বুলবুল রহমান ও ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া, এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আরও দেখুন: ১৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমাজের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।