০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬

প্রাধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলার জেরে গভীর রাতে চবির হলে তালা

চবির শাহ আমানত হলের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হলের প্রাধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপর এক শিক্ষার্থীর মামলা দায়ের করার প্রতিবাদে শাহ আমানত হলের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে হলের মূল ফটকে তালা দেন তারা। হলের আবাসিক ছাত্র ও রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রুবেল রানা হল প্রভোস্টসহ ৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। 

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের মূল ফটকে তালা দেন। জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর হলে ভলিবল খেলা নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রুবেল রানার সঙ্গে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। পরে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আজাদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে আইন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে হল প্রভোস্ট, হল প্রশাসন, হল সংসদ ও প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে ঘটনার সমাধান করা হয়। এ সময় রুবেল রানা মুচলেকা দেন।

এ ঘটনায় রুবেল রানা গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। 

মামলায় আসামি করা হয়েছে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান চৌধুরী, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আজাদ, মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত, আইন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী পলাশ দাসকে। 

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অনলাইন বুলিং, মারধর ও গালাগালের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানাজানি হলে আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে তালা দেন।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা বলছেন, রুবেল রানা বিভিন্ন সময়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে বুলিং করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁর রুমমেটসহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। শিক্ষার্থীদের দাবি, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হলে রাত দেড়টার দিকে হলের গেইটের তালা খুলে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে শাহ আমানত হলের আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আর ওখবর: গোবিপ্রবি ছাত্রীর পিছু নিয়ে ক্যাম্পাসেও হয়রানি—আটক ৩ বহিরাগত, মামলার আসামি ৪ জন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘তিনি হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেন না। তাঁর বিরুদ্ধে সব শিক্ষার্থী নিয়মিত অভিযোগ দেন। তিনি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা এই মামলা প্রত্যাহার চাই। এ ঘটনায় তাঁর উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রুবেল রানার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে হলের মেসেঞ্জার গ্রুপে মেসেজ দিয়ে সবাইকে বিরক্ত করেন। তার সঙ্গে সবার প্রতিনিয়ত ঝামেলা লেগে থাকে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে তাকে একটি সিঙ্গেল রুম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি নতুন করে ঝামেলা তৈরি করছেন।’

মামলার বাদী রুবেল রানা বলেন, ‘আমাকে জুনিয়র দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। আমি কারও কাছে কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমি হলে নিরাপদ বোধ করছি না। তাই আমি মামলা করেছি।’

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন বলেন, ‘আমানত হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। অভিযুক্তকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের শান্ত করে তালা খোলার ব্যবস্থা করেছি। এ ঘটনায় পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’