চবির সিনেট অধিবেশন আজ: বাধার মুখে অংশ নিচ্ছেন না আ’লীগপন্থী শিক্ষকরা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) বাধার মুখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৩৬তম সিনেট অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন না আওয়ামীপন্থী ৮ শিক্ষক। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ না নেওয়া শিক্ষক ফ্যাসিস্টের দোসর বলে অভিযোগ করেছে আসছেন ডাকসু নেতাসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকরা হলেন- ফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দানেশ মিয়া, জিওগ্রাফিরর অধ্যাপক ড. অলক পাল, লোকপ্রশাসনের অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ ও অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী, আইন বিভাগের অধ্যাপক এ. বি. এম. আবু নোমান, ইংরেজির অধ্যাপক ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য, পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান এবং ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক।
চাকসুর পাশাপাশি এসব শিক্ষক বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন চবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। এছাড়া চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান তার ফেসবুকে লেখেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ পন্থি ৮ জন শিক্ষকের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট মিটিং মানবে না, আমরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সেটা জানিয়ে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সব সময় কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সেন্টিমেন্টকে ধারণ করে এবং স্বৈরাচার প্রশ্নে সব আপোষহীন।’
এর আগে চাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ‘খোলা চিঠি’ দেওয়া হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রশাসন এ সিন্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের অংশগ্রহণের বিপক্ষে চাকসুর ২৪ জন প্রতিনিধি খোলা চিঠিতে সম্মতি জানান। তবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এতে অসম্মতি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জাবি থেকে ইউরোপের ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, ইরাসমাস মুন্ডুসে লামইয়ার স্বপ্নযাত্রা
একই সময়ে সিনেট নির্বাচন না হওয়া এবং আওয়ামীপন্থী ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে সিনেট অধিবেশন আয়োজনের অভিযোগ তুলে অধিবেশন প্রত্যাখ্যান করেছে চাকসু। খোলা চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, গবেষণা, নিরাপত্তা ও শিক্ষার মানোন্নয়নসহ ১৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
চাকসুর খোলা চিঠিতে বলা হয়, ৩৬তম সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঁচজন নির্বাচিত সিনেট সদস্যের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারণে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের এ মঞ্চে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব না থাকা ‘দুঃখজনক’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ শিক্ষক, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর ‘গণহত্যার পক্ষে মৌন মিছিল করা’ শিক্ষক এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত শিক্ষককে নিয়ে আয়োজিত সিনেট অধিবেশন প্রত্যাখ্যান করছে চাকসু।