০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩০

হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সক্রিয় কিছু শিক্ষক, আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চবির কমিটি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত অভিযোগে নাম আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। এ জন্য একটি ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের অপতৎপরতা সংক্রান্ত একটি সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। গভীর উদ্বেগ ও সতর্কতার সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। 

এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডের শামিল। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হওয়া এবং শৃঙ্খলা বিরোধী তৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এতে আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

আরও খবর: শিক্ষকদের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, নৈতিক অবস্থান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ৫৫(৩) ধারা ও চিটাগং ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ (ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) স্ট্যাটিউটস অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ, অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ। 

আরও বলা হয়েছে, যারা এরূপ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান এবং দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত নিয়মে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।