২৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৪

শিক্ষামন্ত্রীর পুষে রাখা ক্ষোভ গিয়ে পড়ল কুমিল্লা মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষকের ওপর

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পানি ভেঙে প্রবেশ করছেন পরীক্ষার্থীরা, ইনসেটে শিক্ষামন্ত্রী ও ডাকসু নেতা  © টিডিসি সম্পাদিত

শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনের পুষে রাখা ক্ষোভ কুমিল্লা মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষকের ওপর পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। 

আজ শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে নিজ আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষামন্ত্রী কতটা উন্মাদ এবং ইগোইস্টিক! এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পানিতে ভিজে পরীক্ষা দিতে গেল। ভেজা শরীরে ৩ ঘণ্টা এক্সাম দিল! এই কেন্দ্রটির ছবি-ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠে ও নানা সমালোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী সাহেব ক্ষমাও চেয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য। কিন্তু ঠিকই তার দম্ভ আর রাগ পুষে রেখেছেন মনের মধ্যে এবং সে রাগ ফেললেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষকদের ওপর। উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাত শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দায় শুধু শিক্ষকদের। সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), ইউএনও, শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সর্বোপরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো দায় নেই। তারা একেবারে কোনো কিছুই জানতেন না, কুমিল্লায় বৃষ্টি পড়ছে কিনা সেটা কুমিল্লার শিক্ষা কর্মকর্তা দেখেননি, দেখার দায়-দায়িত্ব শুধু শিক্ষকদের ছিল।’

আরও পড়ুন: ১৩ জুলাই অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীরাই শুধু পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন: শিক্ষামন্ত্রী

জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং জলাবদ্ধ পরিবেশে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিতসহ কটূক্তির কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে সারাদেশে আন্দোলনে নামেন এইচএসসি ব্যাচ ২০২৬-এর শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আন্দোলন থেকে সরে যান তারা। 

এদিকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষাকমিটিতে সম্পৃক্ত কলেজের সাতজন শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণ থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।’

বদলি করা শিক্ষকদের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।