১১ জুলাই ২০২৬, ২১:১৫

রাবির হরিজন পল্লিতে বাণিজ্যিকভাবে শূকর পালন, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পল্লিবাসী

রাবির হরিজন পল্লিতে বাণিজ্যিকভাবে শূকর পালন  © টিডিসি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হরিজন পল্লিতে বাণিজ্যিকভাবে শূকর পালন করা হচ্ছে। খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন হরিজন পল্লি ছাড়াও আশেপাশের মানুষজন। অভিযোগ রয়েছে— পল্লির বাসিন্দা ছাড়াও বহিরাগত হরিজন সম্পদায়ের মানুষ এখানে শূকর পালন করে কেনাবেচা করছেন।

তবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, হরিজন পল্লীতে শূকর পালনের সুযোগ নেই। তাতে আশেপাশের মানুষের অসুবিধা হয়। শূকর পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জানা গেছে— এই পল্লিতে ৯৬ ঘরে বসবাস করছেন ৫শ-র অধিক মানুষ। এছাড়া আশেপাশে বসবাস করেন  কয়েক হাজার মানুষ। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে শূকরের খামার রয়েছে জনি কুমার, নিরব কুমার, প্রান্ত কুমার, বিকি রায়, বিশ্বজিৎ কুমার, শ্রী ওমর, তপন কুমার, শ্রী বিকাশ ও রুবেল কুমারের। সবচেয়ে বেশি শূকর রয়েছে জনি, রুবেল, বিকি ও প্রান্তর। এর মধ্যে বহিরাগত রুবেল। তিনি পল্লিতে বসবাস না করে সেখানে শূকর পালন করছেন। এছাড়া হেতেম খাঁর বাসিন্দাও রয়েছে। সেখানে স্থায়ীভাবে শূকর পালনের জন্য পাকা ছোট ছোট খড় করা হয়েছে। একই সঙ্গে বসানো হয়েছে সাবমার্সেবল পাম্পও।  

সরেজমিনে রাবির হরিজন পল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, পল্লির পূর্বে পুকুর পাড়ে ১৩টি শূকরের খামার করা হয়েছে। সেই খামারগুলোর একেকটিতে ৫ থেকে ১৫টি করে শূকর পালন করা হচ্ছে। এই শূকরগুলোকে রাবির বিভিন্ন হল ছাড়াও শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের বেঁচে যাওয়া বা নষ্ট খাবারগুলো এনে খাওয়ানো হচ্ছে। সেই খাবারগুলো পচে গিয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। সেই দুর্গন্ধে পুকুর পাড়ের বসবাস করা মানুষগুলো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হরিজন পল্লির একজন বাসিন্দা বলেন, ‘নয়জন শূকর পালন করে টাকা খায়। আর আমরা খাই দুর্গন্ধ। সবচেয়ে খারাপ লাগে তিনবেলা ভাত খাওয়ার সময়। বাইরে থেকে অতিথিরা এলে গন্ধে আমরা লজ্জায় পড়ে যাই। দুর্গন্ধের বিষয়টি পাড়ার সভাপতি জানেন। তিনি তাদের নিষেধ করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।  

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, হরিজন পল্লির উত্তরে রেলওয়ে বস্তি। পূর্বে বুধপাড়া গণির মোড়, পূর্ব-দক্ষিণে মোহনপুর মহল্লা। এই সমন্ত এলাকায় চলাচল করা মানুষ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। অনবরত বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার জানিয়েছেন রাবি হরিজন পল্লির সভাপতি শিবু কমার রায়কে। শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লির সভাপতি শিবু কমার রায়কে জানান রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা সেলিম।

তিনি আরও জানান, দুগর্ন্ধে খেতে বসা যায় না বাড়িতে। অনেক সময় দুর্গন্ধে বমি পর্যন্ত হয়ে যায়। তাদেরকে এই এলাকার মানুষ একাধিকবার বলেছে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

আরও পড়ুন: সমাবর্তন না হওয়ায় টাকা ফেরত পেলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে যারা শূকর পালন করছেন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিঠি দিতে দেখা গেছে পল্লির সভাপতি শিবু কুমার রায়কে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গত পূজার (২০২৫) সময় আপনাদের শুকুর (শূকর) পোষা নিয়ে এলাকাবাসী ও মোড়ের সম্মানীয় ব্যাক্তীর (ব্যক্তি) অভিযোগের ভিক্তিতে যে দূগন্ধ (দুর্গন্ধ) হয় তা নেয়ে (নিয়ে) আপনারা কথা দিয়েছিলেন যে এক মাসের মধ্যে আমরা শুকুর (শূকর) পোশা (পোষা) বন্ধ করে দিব (দেবো), কিন্তু আপনারা সে কথা রাখেননি। আবার দুর্গন্ধ হওয়াতে মোড়ের লোকজন আমার কাছে অভিযোগ করে। আগামি (আগামী) তিন দিনের ভিতর শুকুর (শূকর) পোশা (পোষা) বন্ধ না করলে তারা প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ (পদক্ষেপ) গ্রহণ করবে। অতএব, হরিজন পল্লিতে কোনো রকম অস্থিতিশীল সৃষ্টি হলে এর দায়ভার সকল শুকুর (শূকর) ব্যবসায়ীকে নিতে হবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে হরিজন পল্লিতে শূকর পালনকারী কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে রাবি হরিজন পল্লির সভাপতি শিবু কুমার রায় বলেন, সর্বশেষ তিন বছর ধরে তারা ব্যাবসা করছে। এরা বিভিন্ন এলাকায় শূকর সরবরাহ করে। একেক জনের ১০টা থেকে ১৫টা করে শূকর রয়েছে। শূকর পালনের খামারের দুর্গন্ধে পল্লির মানুষ ছাড়াও আশেপাশের এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমরা তাদের চিঠির মাধ্যমে শূকর পালন বন্ধ করতে অনুরোধ করেছি। তারা বন্ধ না করলে বিষয়টি রাবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম বলেন, আমি কয়েকদিন আগেই সেখানে গিয়েছিলাম। তবে সেরকম কিছু চোখে পড়েনি। সত্যি যদি তারা সেখানে শূকুর পালন করে থাকে, তবে তা বন্ধ করা হবে। সেখানে কোনোভাবেই শূকর পালন করতে দেওয়া যাবে না। কারণ আশেপাশে অনেক মানুষ থাকে সেখানে। আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে আবারও দেখে আসব।