০২ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৮

কর্তৃপক্ষ বলছে অনুমতি নেয়নি, ডাকসু নেতার দাবি—ভিসি অনুমতি দিয়ে উদ্বোধন করেছেন

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন  © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসির অনুমতিতে ও উপস্থিত হয়ে উদ্বোধনের পর কেন্দ্রীয় মসজিদে ৫ টন করে ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডাকসু নেতা রায়হান উদ্দীন। এ কাজের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি জারির পর এ কথা বললেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল পেজে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে লিখে দেয়া একটা পোস্ট করা হয়েছে। আপনারা পড়তে আসতে পারেন। মসজিদ নিয়েও বিএনপি প্রশাসনের নোংরা রাজনীতি করা লাগবে?’

তিনি বলেন, ‘ভিসি স্যারের অনুমতিতে এবং উপস্থিতিতে মসজিদ সংস্কারের কাজ উদ্বোধন হয় এবং সংস্কার কাজ শেষেও ভিসি স্যারের (অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান) উপস্থিতিতে মসজিদে দোয়া-মুনাজাত হয়। কিন্তু বিএনপির ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ এখন এসে বলছেন অনুমতি নেয়া হয়নি। নিয়মের দোহাই দিয়ে  শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করতে ব্যস্ত বিএনপি প্রশাসন।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মসজিদের সংস্কার ও এসব এসি স্থাপনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সাব-স্টেশনের বৈদ্যুতিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়নি। তদুপরি এ সংক্রান্ত সকল কাজের আয়-ব্যয়ের কোন হিসাবও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়নি।

আরও বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পুনর্নির্মাণের জন্য তুরস্কের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। এই মসজিদ পুনর্নির্মাণের জন্য ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয় প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাবির মসজিদে ডাকসুর বসানো এসি চালানোর সক্ষমতা নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসুর উদ্যোগে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ৫ টন করে মোট ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। এসব এসি পরিচালনার জন্য মসজিদে কোন বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন বা এসি স্থাপনের উপযোগী সার্ভিস ক্যাবল নেই। যে সাব-স্টেশন থেকে মসজিদের বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া আছে, সে সাব-স্টেশনেরও ২১টি এসি চালানোর মতো সক্ষমতা নেই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এসির বৈদ্যুতিক সংযোগ দিলে অগ্নিকান্ডসহ ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশংকা আছে। এতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, সামাজিক বিজ্ঞান ভবনসহ সংশ্লিষ্ট ভবনসমূহের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়বে। এ কারণে মসজিদের এসির বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও ভবনে নতুন এসি স্থাপন অথবা কোন ভবন ও স্থাপনায় কোন ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জনের সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন স্থানে এসি স্থাপনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। সংশ্লিষ্ট সাব-স্টেশনের বৈদ্যুতিক সক্ষমতা যাচাই করে অনুমতি প্রদান করা হয়।