০১ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে নেওয়ায় ছাত্রশক্তি নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা, সাংবাদিক হেনস্তা

চবিতে মারামারির ঘটনা  © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদকের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এ ঘটনার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক ছাত্রকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নেওয়ায় মারধরের শিকার হয়েছেন চবি ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিব। এ ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের হেনস্তারও অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, গত সোমবার শহীদ মিনার চত্বরে ব্রাজিল–জাপান বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুন এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও আরেক ছাত্রদল কর্মী ইফতেখারুল ইসলাম জিসানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় জিসানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুজনের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হলে মামুনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে রাত ১১টার দিকে শাখা শাহজালাল হলের সামনে জড়ো হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এর আগে ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিব আহত জিসানকে মোটরসাইকেলে করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে পৌঁছে দেন। রাকিবের ভাষ্যমতে, জিসানকে কেন হল থেকে মেডিকেলে নিয়ে গেছি এজন্য সহ-সভাপতি আহসান হাবীব তাকে ফোনে হুমকি দিয়ে শাহজালাল হলের সামনে ডাকেন। সেখানে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে মারধর করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: এইচএসসিতে কম-বেশি নাম্বারিং মনিটরিং করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকিব ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে কথা-কাটাকাটি করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তাকর্মীদের সামনেই তাকে মারধর করা হয়। এতে রাকিবের দুই কান রক্তাক্ত হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া ও হেনস্তার অভিযোগও ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় ছাত্রদল কর্মী তাসিন আল সাদমান, শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী প্রক্টরও আঘাত পান।

এ ঘটনায় আহতদেরকে চবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চবি মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

জানতে চাইলে মারধরের শিকার ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিব বলেন, আমি গতকালকের যারা আহত হয়েছিল তাদের মেডিকেল নিয়ে গেছি। পরে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব ভাই আমাকে কল দিয়ে বলে 'তুই কত বড় নেতা হয়ে গেছিস, শাহজালাল হল থেকে কারে নিয়ে গেছিস? পরে আমি হাবিব ভাইয়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আসলে ছাত্রদলের কয়েকজন কোনো কিছু না বলেই আমাকে মারধর শুরু করে। আমাকে বেধড়ক মারধর করে কোনো কথা না শুনেই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের শাখা সহ-সভাপতি আহসান হাবীব বলেন, রাকিবকে ফোন করে হুমকির ঘটনাটি সম্পুর্ণ বানোয়াট। তার কাছে এ ঘটনার কোনো প্রমাণ আছে?

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, শাহজালাল হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশক্তির রাকিব নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনা থামাতে গিয়ে আমিসহ কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছি। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, গতকাল জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে একটা প্রোগ্রামের উদ্দেশ্যে আমি যাচ্ছিলাম। শাহজালাল হলের সামনে আমাদের ছেলেদের দেখে আমি সেখানে দাঁড়িয়ে যায়। পরে জানতে পারি খেলা দেখার একটি ঝামেলাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি ভালোভাবে নিয়েছি। যারা অভিযুক্ত তাদের বিষয়ে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিব। সাংবাদিকদের সঙ্গে যেসব নেতাকর্মী অশোভন নাচরণ করেছে তাদের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।